কলকাতা, ৫ জুলাইঃ উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়নে ৩১৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার বিশেষ প্রকল্প ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক উৎসাহ যোজনা’ (PMCSPY) নামে এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো এবং শ্রমিক কল্যাণে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে রাজ্যস্তরের কমিটি ইতিমধ্যেই রূপায়ণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। মোট ৩১৩.৩০ কোটি টাকার বরাদ্দে চা বাগান এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবা, শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, এই প্রকল্প চা শ্রমিকদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের পথ খুলে দেবে।
প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অংশ চা শ্রমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনা (CSSSY)। এই খাতে ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই অর্থ ব্যয় হবে চা বাগান এলাকায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসা পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করতে। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব, চিকিৎসা কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে চা বলয়ে। নতুন প্রকল্পে সেই সমস্যাগুলি সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া চা শ্রমিক আশ্রয় যোজনা (CSAY)-র আওতায় ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২১টি বিশ্রামাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ি এলাকায় ৮৮টি এবং সমতলে ২৩৩টি বিশ্রামাগার তৈরি হবে। সরকারি সূত্রে দাবি, এই কেন্দ্রগুলিতে আধুনিক ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা থাকবে, যাতে শ্রমিকেরা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও অন্যান্য পরিষেবা পান।
প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। স্বাস্থ্য দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিভিন্ন কর্মসূচি কার্যকর করা হবে। প্রশাসনের আশা, বহুমুখী এই উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ঘাটতি অনেকটাই কমবে।
চা শিল্প উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলেও, বহু বছর ধরেই বন্ধ বাগান, অনিয়মিত মজুরি, স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘাটতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাব নিয়ে শ্রমিকদের ক্ষোভ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই প্রকল্পকে চা শ্রমিকদের জন্য একটি বৃহৎ কল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে রাজ্য সরকার। এখন নজর থাকবে ঘোষিত প্রকল্প কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তার সুফল কতটা পৌঁছায় চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলির কাছে।





