কলকাতা, ১৪ জুলাইঃ দীর্ঘ প্রায় দু’দশক পর আবার কলকাতায় পা রাখতে চলেছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ অগস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ-বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠও করবেন বলে জানিয়েছেন লেখিকা। সোমবার নিজের ফেসবুক পোস্টে কলকাতায় আসার খবর প্রকাশ্যে আনেন তসলিমা। তাঁর ঘোষণার পর থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
অনুষ্ঠানের আয়োজকদের তরফে তসলিমাকে ‘মৌলবাদ-বিরোধী প্রতিবাদের প্রতীক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সেক্যুলার মিশন এবং এইচআরবিএফএফ-এর আমন্ত্রণেই কলকাতায় আসছেন তিনি। প্রায় ২০ বছর পর এই সফর ঘিরে সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
২০০৭ সালে তসলিমার উপন্যাস দ্বিখণ্ডিত ঘিরে রাজ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় কলকাতার একাধিক এলাকায় উত্তেজনা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জেরে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তাঁকে কলকাতা ছাড়তে হয়। তারপর থেকে ভারতে থাকলেও কলকাতায় তাঁর ফেরা আর হয়নি।
তসলিমার সাম্প্রতিক সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে। বিজেপির একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে লেখিকার কলকাতায় ফেরার পক্ষে তারা সরব ছিল। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যও অতীতে সংসদে তসলিমার ভারতে, বিশেষত কলকাতায় ফিরে আসার পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। তবে তাঁর এই সফরের ক্ষেত্রে সেই উদ্যোগের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
সাহিত্য মহলের একাংশের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাহিত্যচর্চা এবং মৌলবাদ-বিরোধী অবস্থানের কারণে তসলিমা নাসরিন দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আলোচিত লেখক। আবার তাঁর লেখা ও বক্তব্য ঘিরে বিতর্কও কম নয়। ফলে তাঁর কলকাতা সফরকে ঘিরে যেমন উৎসাহ রয়েছে, তেমনই নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না পর্যবেক্ষকেরা।
সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ১ অগস্ট রবীন্দ্রসদনের মঞ্চেই প্রায় দুই দশক পর কলকাতার পাঠক-শ্রোতাদের সামনে হাজির হবেন তসলিমা নাসরিন। সাহিত্য, রাজনীতি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা তিনটি ক্ষেত্রেই এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।





