কোচবিহার, ৮ সেপ্টেম্বরঃ ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।’ ‘তোলাবাজি বরদাস্ত নয়।’ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বারবার এই বার্তাই দিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এবার সেই বার্তাকে সংগঠনের ভিতরেও কার্যকর করার পথে কোচবিহার জেলা বিজেপি। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, কর্মীদের হুমকি-সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তিন মণ্ডল সভাপতি-সহ মোট আট নেতাকে তাঁদের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিল জেলা নেতৃত্ব।
জেলা বিজেপির তরফে ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে সিতাই, নাটাবাড়ি এবং শীতলকুচি বিধানসভার বিভিন্ন মণ্ডলের পদাধিকারীদের নাম উল্লেখ করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়েছে।
জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সিতাই ৬ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন, নাটাবাড়ি ৫ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি মনোরঞ্জন বর্মন এবং শীতলকুচি ৫ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি পবিত্র অধিকারীকে সরানো হয়েছে। একই সঙ্গে শীতলকুচি ৫ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ সরকার, সিতাই ২ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর রায়, সিতাই ৬ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক দীননাথ বর্মন, জেলা কার্যকরী কমিটির সদস্য তরণীকান্ত বর্মন এবং আমন্ত্রিত জেলা কমিটির সদস্য পঙ্কজ সাহাকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মনের বক্তব্য, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, পদে থেকে কর্মীদের হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কোনও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করবে।
বিজেপি সূত্রের দাবি, ধনঞ্জয় বর্মনের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়ানো এবং স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মনোরঞ্জন বর্মনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ টাকা রাখার অভিযোগ সামনে আসে। পবিত্র অধিকারীর বিরুদ্ধে আবার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ ওঠে। এমনকি তাঁকে ঘিরে দলের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছিল বলে দাবি।
অন্য দিকে, পঙ্কজ সাহার বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তরণীকান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িত থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
রাজ্যে বিজেপি সরকারের শুরু থেকেই ‘শুদ্ধিকরণ’ এবং সংগঠনে শৃঙ্খলার বার্তা দিচ্ছেন নেতৃত্ব। সেই আবহে জেলা স্তরে একসঙ্গে আট নেতার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পরেই কি বিষয়টি থেমে থাকে, নাকি রাজ্য নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে আরও কঠোর পদক্ষেপ আসে। সংগঠনের ভিতরে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা কতটা বাস্তব, তার উত্তরও হয়তো মিলবে পরবর্তী পদক্ষেপেই।





