কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বরঃ রাজ্যের রাজনীতিতে ফের তীব্র চাঞ্চল্য। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ওরফে ববি হাকিমের মালিকানাধীন বলে পরিচিত নিউ আলিপুরের দু’টি সংস্থার অফিসে হানা দিল বিশেষ তদন্তকারী দল। টালিগঞ্জ সার্কুলার রোড এলাকায় ওই দুই সংস্থায় আচমকা তল্লাশি শুরু হয়। সঙ্গে ছিল নিউ আলিপুর থানার পুলিশ বাহিনী।
সূত্রের খবর, প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল এই অভিযান চালায়। তদন্তকারীরা পৌঁছন ‘হাকিম পলিমেকারস প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং ‘হাকিম কেমিক্যালস’-এর কার্যালয়ে। সংস্থাগুলির নথি, আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তের নেপথ্যে কী? সূত্রের দাবি, ওই সংস্থাগুলির মাধ্যমে দুর্নীতির টাকা ব্যবহার করে বিপুল সম্পত্তি বা স্থাবর সম্পত্তি অর্জন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে কমিশন। সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে কোনও অনিয়ম বা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির যোগ রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এই অভিযানে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য সামনে আসেনি। তদন্তকারীরা কী নথি বা তথ্য সংগ্রহ করেছেন, তা-ও আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি। অভিযান চলাকালীন ববি হাকিম বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য সেখানে ছিলেন না বলেও জানা গিয়েছে।
বর্তমান রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী কমিশনের কাজের পরিধি বেশ বিস্তৃত। ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতর, প্রকল্প ও প্রশাসনিক স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই কমিশনকে। শিক্ষা, খাদ্য, গৃহায়ণ, পুরসভা, নিয়োগ থেকে শুরু করে আমফান-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে গঠিত এই প্যানেলে পুলিশ ও প্রশাসনের অভিজ্ঞ আধিকারিকরাও রয়েছেন। ফলে ববি হাকিমের মতো হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে যুক্ত সংস্থায় তদন্তকারীদের এই অভিযান স্বাভাবিক ভাবেই নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।
এখন প্রশ্ন, বৃহস্পতিবারের তল্লাশিতে ঠিক কী নথি মিলল? আর সেই নথি থেকেই কি খুলবে কোনও আর্থিক অনিয়মের সূত্র? তদন্ত এগোলেই তার উত্তর মিলবে। আপাতত নজর কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।





