কোচবিহার, ৬ নভেম্বরঃ নদীর বাঁধ কি ক্রমশ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হয়ে উঠছে? তোর্সার পাড়ে হরিণচওড়া থেকে খাগড়াবাড়ি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় একের পর এক দোকান, রেস্তোরাঁর নির্মাণ ঘিরে এমনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, সরকারি জমি দখল করে নদীবাঁধের উপর গড়ে উঠছে একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। কোথাও দোকান, কোথাও আবার রেস্তোরাঁ। এমনকি কয়েকটি নির্মাণের অংশ নদীর বুকেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রবণতা চললেও এ বার বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। দোকানগুলির বৈধতা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ মালিকদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দোকানদারকে বৈধ অনুমতিপত্র এবং জমি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। কোন জমিতে কীসের ভিত্তিতে দোকান বা রেস্তোরাঁ তৈরি হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্মাণের জন্য সরকারি অনুমতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চাইছে পুলিশ। নির্দেশের পর স্বাভাবিক ভাবেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় তোর্সার বাঁধ ছিল নদীর গতিপথ ও শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বাঁধের উপর বাণিজ্যিক নির্মাণের সংখ্যা বেড়েছে। কোথাও স্থায়ী দোকান, কোথাও রেস্তোরাঁ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে নির্মাণের পরিধি নদীর দিকেও এগিয়ে গিয়েছে। ফলে নদীবাঁধের নিরাপত্তা এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীবাঁধের উপর অপরিকল্পিত নির্মাণ শুধু সরকারি জমি দখলের বিষয় নয়, তা ভবিষ্যতে নদীর জলধারণ ক্ষমতা এবং বাঁধের স্থায়িত্বের উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। বর্ষার সময়ে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা থাকে।
এখন প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট দোকান ও রেস্তোরাঁগুলির মালিকদের হাতে কতটা বৈধ নথি রয়েছে? পুলিশের এই পদক্ষেপে কি দীর্ঘদিনের দখলদারির অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে? নাকি সামনে আসবে আরও বড় অনিয়মের ছবি? আপাতত সেই দিকেই তাকিয়ে কোচবিহার শহরবাসী।





