অসম, ২৩ মার্চঃ আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির জন্য সবচেয়ে ‘সহজ’ লড়াই হতে পারে অসমে এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর এই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তবে তাঁর প্রচারের জোর যতটা, ততটাই চর্চায় উঠে এসেছে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় প্রকাশিত সম্পত্তির হিসাব।
ভারতের নির্বাচন কমিশন-এ জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার তুলনায় তাঁর স্ত্রী রিনিকি ভুইয়ান শর্মা-র সম্পত্তি প্রায় ১৫ গুণ বেশি। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে সরব হয়েছে বিরোধীরা।
হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, হিমন্ত বিশ্বশর্মার নিজের কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২.৩৬ কোটি টাকা, যা মূলত তাঁর বেতন ও অন্যান্য উৎস থেকে এসেছে। পাশাপাশি তাঁর নামে প্রায় ৯৫ লক্ষ টাকার ঋণ রয়েছে।
অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী রিনিকি ভুঁইয়ার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৯.২৫ কোটি টাকার স্থাবর এবং ১৩.৫৪ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বিনিয়োগের মাধ্যমে তাঁর আরও উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে। যদিও তাঁর নামেও প্রায় ১৫.৯১ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রিনিকি ভুঁইয়া একাধিক মিডিয়া সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি চিকিৎসা সামগ্রী ব্যবসাতেও সক্রিয়।
উল্লেখ্য, জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে ফের প্রার্থী হয়েছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ২০০১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হওয়ার পর থেকে এই কেন্দ্র তাঁর শক্ত ঘাঁটি। ২০১৫ সালে বিজেপি-তে যোগ দিয়ে ২০১৬ ও ২০২১ সালেও জয় পান তিনি।
তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সারদা কেলেঙ্কারি থেকে পিপিই বিতর্ক একাধিক ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়েছে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দাবি করেছে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি তাঁর স্ত্রীর সংস্থাগুলিকে বেআইনিভাবে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি শিবির। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই অসমে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হচ্ছে।


