খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৩ জানুয়ারিঃ ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে বড় সাফল্য পেল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে অন্তত ১২ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে। জেলা রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি) ও সুকমা পুলিশের যৌথ অভিযানে এই সাফল্য আসে।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, কিস্তারাম থানার অন্তর্গত পালোদি ও পোটাকপল্লি এলাকায় মাওবাদীদের উপস্থিতির গোপন খবর পেয়ে অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের সময় কিস্তারাম এলাকার পামলুর গ্রামের কাছে নিরাপত্তাবাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ বেধে যায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তীব্র গুলির লড়াই। সংঘর্ষ শেষে ঘটনাস্থল থেকে ১২ জন মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়।
নিহতদের মধ্যে কন্টা এরিয়া কমিটির সম্পাদক মাংদুও রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। বাকি নিহত মাওবাদীদের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এনকাউন্টারের পর ঘটনাস্থল থেকে একাধিক স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে AK-47 ও INSAS রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পুরো অভিযানটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন সুকমা জেলার পুলিশ সুপার কিরণ চাভান। বর্তমানে গোটা এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলছে, যাতে কোনও মাওবাদী পালিয়ে যেতে না পারে। নিরাপত্তার স্বার্থে জঙ্গলঘেরা এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, একই দিনে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় পৃথক একটি সংঘর্ষে আরও দুই মাওবাদী নিহত হয়েছে। শুক্রবার ভোর প্রায় পাঁচটা নাগাদ দক্ষিণ বিজাপুরের জঙ্গলে ডিআরজি বাহিনী অভিযান চালালে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুই মাওবাদীর দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই এলাকায় এখনও মাঝেমধ্যে গুলি বিনিময় চলছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন সংঘর্ষে মোট ২৮৫ জন মাওবাদী নিহত হয়েছিল। এর মধ্যে বাস্তার ডিভিশনের সাতটি জেলায় ২৫৭ জন এবং রায়পুর ডিভিশনের গরিয়াবন্দ জেলায় আরও ২৭ জন মাওবাদী নিহত হয়। সাম্প্রতিক এই সাফল্য মাওবাদী দমন অভিযানে নিরাপত্তাবাহিনীর বড় অগ্রগতি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





