কলকাতা, ১৫ মেঃ বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার বাংলায় সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে ঝাঁপাচ্ছে বিজেপি। সামনে ১২১টি পুরসভা এবং ৭টি পুরনিগমের নির্বাচন। তাই এখন থেকেই জেলায় জেলায় সংগঠনকে চাঙ্গা করতে নতুন রণকৌশল নিচ্ছে গেরুয়া শিবির। আর এই লড়াইয়ে দলের ভরসা চার নেতা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
বিজেপি সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনে জনসমর্থনের জন্য সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে খুব শীঘ্রই শুরু হবে ‘অভিনন্দন কর্মসূচি’। জেলা থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত এই কর্মসূচি সংগঠিত করা হবে। সেখানে দলের মুখ হিসেবে তুলে ধরা হবে এই চার নেতাকে। পাশাপাশি পুরভোটকে সামনে রেখে সাংগঠনিক স্তরে ধারাবাহিক কর্মসূচিরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসে ফলতা পুনর্নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলতায় জয়ের ধারা বজায় রাখতে কীভাবে প্রচার ও সংগঠন সাজানো হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে ভবানীপুর আসনে জয়ী হয়ে শপথ নেওয়ার ফলে শুভেন্দুর ছেড়ে দেওয়া নন্দীগ্রাম আসনেও ফের উপনির্বাচন হতে চলেছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নন্দীগ্রামে আবারও পদ্ম ফুটবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের পিছনে এই চার নেতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। শুভেন্দু অধিকারী উত্তর থেকে দক্ষিণে ঘুরে দলের কর্মীদের মনোবল বাড়িয়েছেন। ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জি-কে হারিয়ে তিনি কার্যত ‘জায়ান্ট কিলার’ তকমা পেয়েছেন। পাশাপাশি নিজের পুরনো ঘাঁটি নন্দীগ্রামেও জয় ধরে রেখেছেন তিনি।
অন্যদিকে শমীক ভট্টাচার্যকে দলের অন্যতম সফল সংগঠক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে নতুন ও পুরনো কর্মীদের একসঙ্গে এনে দলকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব। বাঙালিয়ানা ও আঞ্চলিক আবেগকে সামনে এনে সংগঠন বিস্তারের কৌশলও নিয়েছেন তিনি।
সুকান্ত মজুমদার গত কয়েক মাস ধরে জেলার পর জেলা ঘুরে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। আর দিলীপ ঘোষও নিজের কেন্দ্রের প্রচার শেষ করে বিভিন্ন জেলায় সভা ও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, এই চার নেতার উপরই আগামী দিনের বাংলার রাজনৈতিক লড়াইয়ে আস্থা রাখছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।





