নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: এক পালাবদলে বাংলা ছেড়েছিল মাওবাদীরা। আর এক পালাবদলে কি ফের বাংলার দিকেই তাদের নজর? ঝাড়খণ্ডের সারাণ্ডা জঙ্গল ছেড়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র মাওবাদী স্কোয়াড দলমা হয়ে জঙ্গলমহলের দিকেই সরে আসছে এমনই গোয়েন্দা-তথ্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য প্রশাসনে। ১৪ বছর পর মাওবাদীদের নতুন গতিবিধির খবর মিলতেই পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বীরভূম জঙ্গলমহলের পাঁচ জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করেছে রাজ্য পুলিশ। সক্রিয় করা হয়েছে একদা মাও-উপদ্রুত থানা, ফাঁড়ি ও ক্যাম্পগুলিকেও।
বাম জমানার শেষ পর্বে জঙ্গলমহলের মাও আন্দোলনের মুখ ছিলেন সিপিআই (মাওবাদী)-র পলিটব্যুরো সদস্য কিষাণজি। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর যৌথ বাহিনীর অভিযানে তাঁর মৃত্যু এবং পরবর্তী সময়ে একের পর এক শীর্ষ মাও নেতার গ্রেপ্তার, মৃত্যু বা আত্মসমর্পণের জেরে বাংলায় সশস্ত্র মাওবাদী কার্যত মাটি হারায়। ২০১২-র পর অবশিষ্ট সদস্যদের অনেকেই ঝাড়খণ্ডের দলমা, খুঁটি হয়ে সারাণ্ডার দুর্গম জঙ্গলে ঘাঁটি গেড়েছিল।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে ‘মাও-মুক্ত’ করার লক্ষ্য ঘোষণা করার পর ছত্তীসগঢ়, তেলেঙ্গানা ও ঝাড়খণ্ডে যৌথ বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার হয়। সেই চাপের মধ্যেই সারাণ্ডা থেকে মাও স্কোয়াডের একাংশ সরে পড়েছে বলে গোয়েন্দাদের অনুমান। আত্মসমর্পণ করা জঙ্গলমহলের প্রাক্তন মাও নেত্রী শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পাকে জেরা করেই তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বাংলা ও সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড এলাকায় এখন সক্রিয় মাওবাদীর সংখ্যা ১০ থেকে ১২ জনের বেশি নয়। তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ।
গোয়েন্দাদের ধারণা, স্কোয়াডটি ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় নতুন সদস্য জোগাড়ের কাজ শুরু করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছেও টাকার জন্য বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নতুন করে সংগঠন গোছানোর ছক, না কি শেষ মুহূর্তে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ? সেই উত্তর খুঁজতেই এখন তৎপর বাংলা ও ঝাড়খণ্ড পুলিশ।





