উত্তর দিনাজপুর, ১৩ এপ্রিলঃ করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের নির্বাচনে বাম শিবিরের প্রার্থী মহম্মদ শাহাবুদ্দিনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক বিশেষ জনআবেগ। জীবনে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, প্রচারে তাঁর উপস্থিতি এবং জনসংযোগ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের।
মনোনয়নপত্র জমার দিন থেকেই তাঁর সমর্থনে ব্যাপক জনসমাগম চোখে পড়েছে। রায়গঞ্জ শহরে মিছিল করতে প্রায় পাঁচশো গাড়ির উপস্থিতি ঘিরে চর্চা শুরু হয়, যদিও নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী এত গাড়ির অনুমতি নেই। এ প্রসঙ্গে শাহাবুদ্দিনের দাবি, কোনও আনুষ্ঠানিক আহ্বান ছাড়াই সমর্থকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, এই জনপ্রিয়তার পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক কাজ। ইদ উপলক্ষে সর্বধর্ম সমন্বয়ের উদ্যোগ, অনাথ শিশুদের পাশে দাঁড়ানো, ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন কিংবা দুঃস্থদের সাহায্য বছরের পর বছর নানা মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন তিনি। সাদা ধুতি-পাঞ্জাবিতে সহজ-সরল জীবনযাপনও সাধারণ মানুষের কাছে তাঁকে আরও কাছের করে তুলেছে।
করণদিঘির ভুলকি গ্রামের বাসিন্দা ৬৩ বছরের এই প্রার্থী রাজনীতিতে নতুন নন। অতীতে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন, আর তাঁর স্ত্রীও জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি প্রাক্তন বিধায়ক গোকুল রায়কে সঙ্গে নিয়ে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন তিনি।
তবে লড়াই সহজ নয়। তাঁর প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছেন তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক গৌতম পাল, বিজেপির তরুণ মুখ বিরাজ বিশ্বাস এবং কংগ্রেসের মর্তুজা আলম। সবমিলিয়ে করণদিঘিতে চতুর্মুখী লড়াই জমে উঠেছে।
শাহাবুদ্দিনের কথায়, “অনেকেই তৃণমূল ছেড়ে আমার পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তবে রাজনীতিতে আমি আমার ছেলেকে টানতে চাই না।” ভোট যত এগোচ্ছে, করণদিঘির রাজনৈতিক উত্তাপ ততই বাড়ছে।





