কলকাতা, ২২ মার্চঃ প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি-র অন্দরে ক্ষোভ চরমে উঠেছে। সল্টলেকের রাজ্য কার্যালয়ে টানা দু’দিন ধরে বিক্ষোভের মধ্যেই এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও ২০১৯ সালের বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মৃণাল কান্তি দেবনাথ। তাঁর অভিযোগ, প্রার্থী হওয়ার পর তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন দলের শীর্ষ নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং তৎকালীন এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রার্থী বাছাই নিয়ে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির একাংশ কর্মী-সমর্থক। তাঁদের অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুনীল বনশল।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দেন মৃণাল কান্তি দেবনাথ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বর্তমানে তিনি আর সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর দাবি, প্রায় সাত বছর আগে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে নির্বাচনে দাঁড় করানো হয়েছিল। তিনি লেখেন, রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ একজন মানুষকে প্রার্থী করে কিছু নেতা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করেছিলেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি করেন টাকার প্রসঙ্গে। তাঁর দাবি, ২০১৯ সালে প্রার্থী ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই ভোপাল থেকে ফোন করে কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও দলীয় নেতৃত্বের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এছাড়াও দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। হাবড়া কেন্দ্রের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, স্থানীয় যোগ্য নেতাদের উপেক্ষা করে অন্য এলাকার নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মৃণাল কান্তি দেবনাথ আরও জানান, এবারের নির্বাচনেও তাঁকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর কথায়, তিনি তাঁর চিকিৎসক পেশাতেই সন্তুষ্ট এবং রাজনীতি থেকে দূরেই থাকতে চান।
সব মিলিয়ে প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে একের পর এক অভিযোগে চাপে পড়েছে বিজেপি। এই পরিস্থিতি নির্বাচনের আগে দলের ভাবমূর্তিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।





