খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২২ ফেব্রুয়ারিঃ রাজকোষের ঘাটতি সামাল দিতে বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটছে ভারত সরকার। আর্থিক সংস্কারের অঙ্গ হিসেবে রেলের সম্পত্তি ও বিভিন্ন সংস্থায় সরকারি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই এই পদক্ষেপকে ‘বেচারাম নীতি’ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে।
সূত্রের খবর, জাতীয় মুদ্রাকরণ পাইপলাইন (NMP)-এর আওতায় এই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আগে ভারতীয় জীবন বীমা কর্পোরেশন-র শেয়ার বিক্রি এবং এয়ার ইন্ডিয়া বেসরকারিকরণের মাধ্যমে সম্পদ নগদীকরণের পথে এগিয়েছিল কেন্দ্র। এবার সেই তালিকায় গুরুত্ব পাচ্ছে ভারতীয় রেলওয়ে। নীতি আয়োগের প্রস্তুত করা রূপরেখা অনুযায়ী রেলমন্ত্রক ও অর্থমন্ত্রকের ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট(DIPAM)-এর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রেলের ১৭টি জোনকে অব্যবহৃত জমি, ভবন, আবাসন ও অন্যান্য সম্পত্তির তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। এগুলি সরাসরি বিক্রি অথবা দীর্ঘমেয়াদি লিজে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি লাভজনক সংস্থাগুলিতে সরকারের অংশীদারিত্ব কমানোর প্রস্তাবও রয়েছে। বর্তমানে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ফাইন্যান্স কর্পোরেশন-এ সরকারের অংশীদারিত্ব ৮৬ শতাংশের বেশি। এছাড়া রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড, আরআইটিইএস লিমিটেড, আইআরকন ইন্টারন্যাশনাল ও রেলটেল কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া-এ শেয়ার ৫১ শতাংশে নামিয়ে আনার চিন্তাভাবনা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে বিপুল আর্থিক চাপ তৈরি হবে। সেই অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতেই রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ নগদীকরণের পথে হাঁটছে কেন্দ্র। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।





