খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ ডিসেম্বরঃ সমাজবাদী পার্টির সাংসদ হলেও জন্মসূত্রে বাঙালি জয়া বচ্চন শুক্রবার সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে বাংলার প্রতি বঞ্চনা এবং বাঙালি মনীষীদের প্রতি অপমানের বিরুদ্ধে সরব হন। ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণীও করেন তিনি। জয়া স্পষ্টভাবে বলেন, “বাংলায় আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নিশ্চয়ই হবে।”
এদিন সংসদ চত্বরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প এর নাম পরিবর্তন এবং বাঙালি মনীষীদের অপমানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা জয়া বচ্চনও এই বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে গলা মেলান এবং রবিগানেও যোগ দেন। জন্মসূত্রে বাঙালি জয়া এদিন স্পষ্ট করে দেন, প্রবাসী হলেও বাংলার সঙ্গে তার নাড়ির টান অটুট।
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে জয়া বলেন, “যত অপমান করবে, তত বাংলার লোকেদের মনোবল আরও বাড়বে।” এ প্রসঙ্গে তিনি বাঙালির আত্মবিশ্বাস এবং সাংস্কৃতিক অহংকারের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি, তিনি আগামী বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে জোর দিয়ে বলেন, “বাংলায় আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নিশ্চয়ই হবে। নিশ্চয়ই হবে।”
জয়া বচ্চন বাংলার রাজনৈতিক সচেতনতা এবং দূরদর্শিতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে গোপালকৃষ্ণ গোখলের বিখ্যাত উক্তি ‘What Bengal Thinks Today…’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “দেশের পলিসি আগে ভেবে নেয় বাংলার মানুষ। আগে চিন্তা করে নেয়। আগে বলে দেয় কী হবে। বাঙালিরাই দেশের ভবিষ্যৎ বলে দেয়।” এই বক্তব্যে তিনি বাংলার মানুষকে দেশের রাজনৈতিক প্রভাবক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বিক্ষোভ এবং বিরোধীদের কটাক্ষের জবাবে জয়া বচ্চনের সরল ও দৃঢ় মনোভাব সংসদ চত্বরকে চাঞ্চল্যকর করে তোলে। বিশেষত, এই বার্তা যে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে বাঙালির মর্যাদা রক্ষা করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে, তা এদিন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জয়া বচ্চনের এই অবস্থান শুধুমাত্র সাংসদ হিসেবে নয়, বরং বাঙালি হিসাবে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে। এটি পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভবিষ্যৎ ভোটার মনোভাবের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এভাবেই বাঙালির অধিকার, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সঙ্গতি নিয়ে জয়ার বক্তব্য আজ সংসদ চত্বরকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।





