পানিহাটি, ৯ এপ্রিলঃ বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে জমজমাট হয়ে উঠেছে পানিহাটির রাজনৈতিক লড়াই। বৃহস্পতিবার তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ-এর সমর্থনে জনসভা করতে এসে দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক সৌজন্যের বার্তাও দেন।
আগরপাড়ার উষুমপুর বিদ্যাসগর ক্রীড়াঙ্গন থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, “ভোটে কেউ প্রার্থী হলে তাঁর নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু আমি কাউকে কটূক্তি করব না। আপনারাও সৌজন্যের সীমারেখা বজায় রাখবেন।” তাঁর এই মন্তব্য যে বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ-এর উদ্দেশ্যেই, তা রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট।
উল্লেখ্য, বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ সম্প্রতি প্রচারে নেমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এই প্রেক্ষিতে সরাসরি পাল্টা কটূক্তি না করে তুলনামূলক মৃদু সুরেই জবাব দেন তৃণমূল নেত্রী।
এদিন নিজের বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষার প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, “সন্তানদের শিক্ষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অধিকার রক্ষা করতে হলে তৃণমূল সরকার প্রয়োজন।” পাশাপাশি ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তৃণমূল প্রার্থীকে জয়ী করতে।
বিজেপির পাশাপাশি সিপিএমকেও একহাত নেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, “বিজেপির এখন সবচেয়ে বড় বন্ধু সিপিএম। এত বছর সিপিএম শাসনে অত্যাচার হলেও বিজেপি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।” তিনি আরও দাবি করেন, পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপি ও সিপিএম প্রার্থীদের মধ্যে গোপন সমঝোতা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তও নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনায় উঠে এসেছেন। সব মিলিয়ে তৃণমূল, বিজেপি ও সিপিএম তিন দলের ত্রিমুখী লড়াইয়ে পানিহাটির নির্বাচন ক্রমেই আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
ভোটের আগে এই ধরনের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মঞ্চ। এখন নজর ভোটের ফলাফলের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে কার দখলে যাবে পানিহাটি কেন্দ্র।





