খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২ মার্চঃ এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সূচনা। তালিকা অনুযায়ী প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে বলে দাবি শাসকদলের। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। তালিকা প্রকাশের পর সোমবার প্রথমবার মুখ খুলে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।
মমতার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। নাম না করে জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “দেশের সংবিধান বিপদে। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বিপদে। কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট।” ভবানীপুর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,“ভবানীপুর ছোট কেন্দ্র, মোট ২ লক্ষ ৬ হাজার ভোটার। সেখান থেকে প্রথমে ৪৪ হাজার, পরে আরও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাহলে ভোটার থাকল কোথায়? ভবানীপুরে আমিই জিতব। এক ভোটে হলেও জিতব।”
তিনি দাবি করেন, বিএলও ও ইআরওরা চার মাস ধরে পরিশ্রম করেছেন। তাঁদের উপর দায় চাপানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। মমতার আরও দাবি, মাইক্রো অবজার্ভারদের সঙ্গে দিল্লিতে বসে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার ‘বিচারাধীন’ রয়েছেন বলেও দাবি তৃণমূলের। মমতা বলেন, “আমি কোনও সম্প্রদায়ের কথা বলছি না। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা সাধারণ মানুষ। যা নথি ছিল, জমা দিয়েছেন। তারপরও নাম গিয়েছে।” ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় বা ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় থাকায় মানসিক চাপে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটের আগে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে চাইছে কমিশন। তাঁর বক্তব্য, “ওরা গণতান্ত্রিক ভাবে লড়তে পারছে না, তাই পক্ষপাতদুষ্ট সংস্থার সাহায্য নিচ্ছে।” যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এই অভিযোগ মানা হয়নি।
এসআইআর তালিকা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





