খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৫ জানুয়ারিঃ মহারাষ্ট্রের ভোটে বিজেপির প্রার্থী হয়েও পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় নাম এই অভিযোগকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে বীরভূমের দুবরাজপুরে। অভিযোগ, মহারাষ্ট্রের নাসিকের স্থায়ী বাসিন্দা উজ্জ্বলা আপ্পা বুরুঙ্গুলের নাম ২০২৫ সালের দুবরাজপুর বিধানসভা এলাকার ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি বছরে তিনি নাসিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী বলেও তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে।
উজ্জ্বলা আপ্পা বুরুঙ্গুলে দুবরাজপুরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯৪ নম্বর বুথের ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত। এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় নির্বাচন কমিশন তাঁকেও শুনানির নোটিস পাঠায়। শুক্রবার সেই নোটিস পেয়ে তিনি শুনানিতে হাজিরা দেন। শুনানির পর তাঁর নাম ভোটার তালিকায় থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বহিরাগতদের গোপনে ভোটার তালিকায় ঢোকানোর অভিযোগে ফের সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের আঁতাতেই এই ধরনের কারচুপি হচ্ছে। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “যিনি নাসিকে বিজেপির প্রার্থী, তিনি আবার বাংলার ভোটার এটাই তো আমরা বলে আসছি। এইভাবেই লুকিয়ে চুরিয়ে নাম ঢোকানো হচ্ছে। এখন চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।” তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিকভাবে জিততে না পেরেই বিজেপি এই ধরনের জালিয়াতির পথে হাঁটছে।
যদিও উজ্জ্বলার স্বামী আপ্পা শংকর বুরুঙ্গুলে জানান, “গত দশ বছর ধরে আমরা দুবরাজপুরেই থাকছি। এখানে আমার সোনা-রুপোর পালিশের দোকান আছে। বাবা-মা নাসিকে থাকেন। বড় ছেলে ওদের সঙ্গে থাকে, ছোট ছেলে দুবরাজপুরে।” তিনি স্বীকার করেন, নাসিকে বিজেপি-শিবসেনা জোটের প্রার্থী হিসেবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে উজ্জ্বলা লড়ছেন।
এই ঘটনার প্রথম নজর পান ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সাগর কুন্ডু। বিষয়টি দলের নেতৃত্বকে জানানো হয়। দুবরাজপুর তৃণমূল শহর সভাপতি স্বরুপ আচার্য্য বলেন, “এটা নিছক ঘটনা নয়, এটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বহিরাগত ভোটার এনে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।”
অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা বলেন, “একজনের নাম কেন দু’জায়গায় রয়েছে, তা নির্বাচন কমিশনই ব্যাখ্যা করবে। এটা বাঞ্ছনীয় নয়। আমরা স্বচ্ছ ভোটার তালিকার পক্ষেই।” কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।





