কলকাতা, ১৪ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে। সোমবার রাতে দিল্লি থেকে কয়লা পাচার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে এই গ্রেপ্তারি করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
ভিনেশ চান্ডেল আইপ্যাক-এর ডিরেক্টর, যা রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে পরিচিত। ফলে ভোটের ঠিক ১০ দিন আগে এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে শাসক শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ এবং বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ঘটনার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। তাঁর বক্তব্য, “ইডির এই পদক্ষেপ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যদি কেউ বিরোধীপক্ষে কাজ করেন, তাহলে তিনিই পরবর্তী টার্গেট।” তিনি আরও দাবি করেন, ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই ধরনের পদক্ষেপ গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।
এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ দীর্ঘ পোস্টে অভিষেক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি লেখেন, “৪ ও ৫ মে বাংলায় থাকুন। সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার এবং যেসব কেন্দ্রীয় সংস্থা মোতায়েন করা হয়েছে, সবাইকে নিয়ে আসুন। বাংলার মানুষ মাথা নোয়াবে না, তার জবাব দেবে।”
তৃণমূলের অভিযোগ, বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তদের রক্ষা করে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলেছে শাসক দল। তাদের দাবি, গণতন্ত্র রক্ষার বদলে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে ইডি বা বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ঘটনা রাজ্যের নির্বাচনী আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
৪ মে ভোটের ফলপ্রকাশকে সামনে রেখে শাসক শিবির যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। তাদের দাবি, বিপুল জনসমর্থন পেয়ে ফের বাংলায় সরকার গঠন করবে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





