খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২০ জানুয়ারি: সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুন মামলায় জোড়া ধাক্কা খেলেন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন। একদিকে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সেই নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা প্রশাসনের তরফে তাঁকে বিডিও পদ থেকে অপসারণ করা হল।
প্রশান্ত বর্মনের পরিবর্তে রাজগঞ্জের বিডিওর দায়িত্ব আপাতত দেওয়া হয়েছে যুগ্ম বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডলকে। মঙ্গলবার নবনিযুক্ত বিডিওকে সংবর্ধনা জানান স্থানীয় বিধায়ক খগেশ্বর রায়। তিনি বলেন, “বিডিও না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক কাজে সমস্যা হচ্ছিল। সৌরভকান্তি মণ্ডল একজন কাজের মানুষ। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণে রাজগঞ্জের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।”
উল্লেখ্য, সল্টলেকের দত্তাবাদে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে নিহতের পরিবার। অভিযোগ, এই খুনের ঘটনার সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগ ছিল। তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে একাধিক তথ্য আসে, যা থেকে বিডিওর সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মেলে। এই মামলায় প্রশান্ত বর্মনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত হিসেবে অভিযুক্ত বিডিওর নাগাল পেতে দীর্ঘদিন হিমশিম খেতে হয় তদন্তকারীদের।
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশান্ত বর্মন প্রথমে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন, যা মঞ্জুর হয়। পরে বিধাননগর মহকুমা আদালতেও তিনি আগাম জামিন পান। এই ঘটনায় পুলিশি তদন্ত ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
সোমবার শীর্ষ আদালতে মামলার শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রশান্ত বর্মনকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। সেই নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা প্রশাসন তাঁকে বিডিও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দীর্ঘদিন আইনি জটিলতায় কাজের বাইরে থাকায় রাজগঞ্জে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। প্রশাসনিক স্বাভাবিকতা ফেরাতেই যুগ্ম বিডিওকে আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।





