খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৫ ডিসেম্বরঃ পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের গুরুতর অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হলো এক পরিবার। সোমবার মালদা জেলা আদালতে পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কালিয়াচক থানার জালালপুর এলাকার বাসিন্দা জিয়াউল হকের স্ত্রী সাবেরা বিবি। অভিযোগকে ঘিরে জেলা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত সপ্তাহে কালিয়াচকের জালালপুর এলাকায় গুলিতে নিহত হন এক পাপড় বিক্রেতা। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ জিয়াউল হককে আটক করে। এরপর তাকে কালিয়াচক থানায় নিয়ে গিয়ে প্রায় তিন দিন ধরে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ, এই সময় থানার লকআপে তাকে শারীরিকভাবে মারধর করা হয় এবং মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
সাবেরা বিবির দাবি, কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ বা গ্রেপ্তারের নথি ছাড়াই জিয়াউলকে দীর্ঘ সময় থানায় আটকে রাখা হয়। আইন অনুযায়ী কাউকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আদালতে পেশ না করে আটক রাখা যায় না। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীরাও। তাঁদের মতে, যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
সাবেরা বিবি আরও জানান, এই ঘটনার পর তিনি ন্যায়বিচারের আশায় প্রথমে কালিয়াচক থানায় অভিযোগ জানান। এরপর পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। কিন্তু বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর।
নিরুপায় হয়ে অবশেষে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতে দায়ের করা অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনি আটক, মারধর এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এদিন আদালত বিষয়টি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশের পর তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে আক্রান্ত পরিবার। তাদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।





