রায়গঞ্জ, ১৪ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-র জনসভার আগেই রায়গঞ্জে অস্থায়ী হেলিপ্যাড ভেঙে ফেলার অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি হয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস।
মঙ্গলবার রায়গঞ্জ স্টেডিয়ামে কংগ্রেস প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্তের সমর্থনে জনসভা করার কথা রাহুল গান্ধীর। তার প্রস্তুতি হিসেবে স্টেডিয়ামের পাশেই একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, সোমবার রাতেই সেই কংক্রিটের হেলিপ্যাড ভেঙে ফেলা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন কংগ্রেস নেতা তুষার গুহ ও অন্যান্য কর্মীরা। তাঁরা এই কাজের বিরোধিতা করেন।
কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই সভার সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবুও হঠাৎ করে হেলিপ্যাড ভাঙার ঘটনা পরিকল্পিত এবং এর পেছনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস-এর হাত রয়েছে। জেলা কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাস মুন্সি বলেন, “নির্বাচনী সভা করা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু তৃণমূল সেই ন্যূনতম সৌজন্যবোধও হারিয়েছে। নিয়ম মেনেই সভার আয়োজন করা হয়েছিল, তবুও এই ধরনের বাধা তৈরি করা হচ্ছে।”
এই ঘটনায় সরব হয়েছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী-ও। তাঁর বক্তব্য, “রাহুল গান্ধী নিজেই এসে দেখবেন, এই রাজ্যে কীভাবে তৃণমূল রাজনীতি চালাচ্ছে।” অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করেছেন।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। রায়গঞ্জ পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকার বলেন, “তৃণমূলের এমন পরিস্থিতি হয়নি যে কংগ্রেসের প্রচার বন্ধ করতে হবে। হেলিপ্যাড ভাঙার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে কংগ্রেসের প্রচার ঘিরে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও সব বিতর্কের মধ্যেই নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রাহুল গান্ধীর জনসভা হবে কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।এখন দেখার, এই অভিযোগ-প্রত্যাঘাতের লড়াই ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত জনতার রায় কোন দিকে যায়।





