খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২১ জানুয়ারিঃ ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ রায় পাওয়ার পরই প্রশাসনিক স্তরে নড়াচড়া শুরু হয়েছে রাজ্যে। সেই আবহেই জেলা শাসকদের বৈঠকে আচমকা ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর ডাকা ওই বৈঠকে হঠাৎই হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে প্রায় ১৫ মিনিট সময় নিয়ে জেলা শাসকদের কড়া বার্তা দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট অভিযোগ করেন, তিন-চারজন জেলা শাসক নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের স্বার্থে কাজ করছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জেলা শাসকরা রাজ্য সরকারের অধীনেই কাজ করেন এবং সেই দায়িত্ববোধ বজায় রাখা তাঁদের কর্তব্য। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআরের সময় যাতে তথ্যগত অসংগতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির কারণে সাধারণ মানুষ হেনস্থার শিকার না হন, সে বিষয়েও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে এসআইআরের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, এসআইআরের শুনানি-পর্ব শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অন্তত ১০ দিন সময় বাড়ানো হতে পারে। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত দিনও পিছিয়ে যাবে। আপাতত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, তা ফেব্রুয়ারির শেষদিকে গড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির তালিকা অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে। শহরের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড অফিসে এবং গ্রামাঞ্চলে পঞ্চায়েত ভবন ও ব্লক অফিসে সেই তালিকা টাঙাতে হবে। পাশাপাশি তালিকা প্রকাশের পর অন্তত ১০ দিন সময় দিতে হবে, যাতে যাঁরা নথি জমা দিতে পারেননি বা আপত্তি জানাতে পারেননি, তাঁরা সুযোগ পান।
এই সবকিছুর মধ্যেও নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য, সামান্য দেরি হলেও ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা, যাতে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণায় অযথা বিলম্ব না হয়।





