খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ ডিসেম্বরঃ ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র অশান্তি। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শোক মিছিল, অবস্থান বিক্ষোভের আড়ালে ছড়িয়ে পড়ে হিংসার আগুন। এই হিংসার প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে প্রগতিশীল সংবাদমাধ্যম। ঢাকায় ‘প্রথম আলো’ এবং ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর দপ্তরে ভাঙচুর চালানো হয়, এমনকি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় অফিস ভবনে।
হিংসার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর এক মহিলা সাংবাদিক জাইমা ইসলাম সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “ভিতরে আটকে পড়েছি, চতুর্দিকে ধোঁয়া। শ্বাস নিতে পারছি না। তোমরা কি আমাকে মেরে ফেলবে?” তাঁর এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে আসে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার সময় বহু কর্মী দপ্তরের ভিতরে আটকে পড়েন। ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর আধিকারিক তাজদিন হাসান লেখেন, প্রায় ২০ জন কর্মী দপ্তরের ছাদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম-সহ বিভিন্ন শহরে শোক মিছিল বের হয়। একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারাও রাস্তায় নামেন। শাহবাগ-সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলে অবস্থান বিক্ষোভ। কিন্তু রাত যত গভীর হয়েছে, পরিস্থিতি ততই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একাংশের দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে সংবাদমাধ্যমের উপর হামলা চালায়।
প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন। ইউনূস সরকারের অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগের এক কর্মী তাঁকে গুলি করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিস্থিতির অবনতি আঁচ করেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি দেশবাসীর কাছে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আবেদন জানান এবং হিংসার পথ পরিহারের কথা বলেন। তবে বাস্তবে তাঁর সেই আবেদন কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা হিংসা ও সংবাদমাধ্যমের উপর হামলা বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।





