খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৮ মার্চঃ শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আক্রমণে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি ও অমিত শাহকে নিশানা করে অভিযোগপত্র প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস।
এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত বসু, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রা এবং কীর্তি আজাদ। তৃণমূলের তরফে স্লোগান তোলা হয় “মোটা ভাই জবাব চাই”। নাম না করে অমিত শাহকে কটাক্ষ করে ব্রাত্য বসু বলেন, “একজন ক্লাউনকে বিচারকের আসনে বসালে কী হয়, সেটা দেশবাসী দেখছেন।”
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র আরও তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “জোকার সিংহাসনে বসলে রাজা হয় না, রাজপ্রাসাদ সার্কাসে পরিণত হয়।” তাঁর অভিযোগ, অমিত শাহ বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশ করেছেন এবং বাঙালিদের বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা বলে অপমান করেছেন। পাশাপাশি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগও তোলেন তিনি।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মহুয়া। তাঁর দাবি, ২০১৪ সাল থেকে ইডি প্রায় ছয় হাজার মামলা করেছে, যার ৯৮ শতাংশ বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে। অথচ দোষী সাব্যস্ত হয়েছে খুবই কম সংখ্যক ক্ষেত্রে। তিনি আরও বলেন, বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে তেমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে, ব্রাত্য বসু বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী সুরক্ষার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় রিপোর্ট অনুযায়ী উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থান এই তিনটি রাজ্যেই নারীরা সবচেয়ে বেশি অসুরক্ষিত, অথচ সেগুলি বিজেপি শাসিত। পাশাপাশি বাংলার প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখার অভিযোগও তোলেন তিনি।
ব্রাত্য আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রের বক্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ডেমোগ্রাফি পাল্টে গেলে দায় কার?” একইসঙ্গে মণিপুর, উন্নাও, হাতরাসের মতো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও সরব হন তিনি।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এই রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। বিজেপির চার্জশিটের জবাবে তৃণমূলের এই পাল্টা আক্রমণ রাজ্যের নির্বাচনী লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।





