মনিরুল হক, কোচবিহারঃ ভোটের আবহে কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে আক্রমণাত্মক সুরে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের ঘোকসাডাঙার ছোটশিমূলগুড়ি গ্রাউন্ডের দিনের প্রথম জনসভায় তিনি একদিকে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন, অন্যদিকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন।
সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে গত কয়েক বছরে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। নারায়ণী ব্যাটেলিয়ান গঠন, পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, রেলপথ ও বিমান পরিষেবার উন্নয়ন, রাজবংশী ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসার সব ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “বাংলার মানুষকে সম্মান ও অধিকার দেওয়ার কাজ আমরা করেছি।”
রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় শীতালকুচি-তে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ওই মর্মান্তিক ঘটনা বাংলার মানুষ ভুলবে না।”
বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার কোচবিহারের মানুষের জন্য কোনও উল্লেখযোগ্য কাজ করেনি। ছিটমহল সমস্যার সমাধানের কৃতিত্ব নিজের সরকারের বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি ছিটমহল অধিগ্রহণ করেছি, মানুষের সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছি।” বিজেপিকে তিনি অত্যাচারী, রাজবংশী বিরোধী, মহিলা বিরোধী, আদিবাসী বিরোধী ও সংখ্যালঘু বিরোধী বলেও কটাক্ষ করেন।
এদিন ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ড নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে কোনও সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর কথায়, “ওরা কিছু দেবে না, উল্টে যা আছে তাও কেড়ে নেবে।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমিত শাহ-কে নিশানা করে মমতা বলেন, “যাঁরা বলছে মানুষকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে, তাঁদেরই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেব।” একইসঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক বার্তা, “বাংলা জিতে দিল্লি দখল করব।”
দলের প্রার্থীকে পাশে দাঁড় করিয়ে ভোটারদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি “আপনারা কাকে ভোট দেবেন? একজন অধ্যাপককে না একজন গুন্ডাকে ?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী শিবিরকে কটাক্ষ করেছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ডিলিমিটেশন বিল নিয়েও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাকে ভাগ করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “ডিলিমিটেশন আর মহিলা সংরক্ষণ বিল একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।” একইসঙ্গে এনআরসি প্রসঙ্গ তুলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের নাগরিকত্ব নিয়েও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সভা শেষে আত্মবিশ্বাসী সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চার তারিখ সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। মানুষের রায়ই শেষ কথা বলবে।”
মাথাভাঙার এই জনসভা থেকে স্পষ্ট, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নামতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।





