আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

ভোট ডিউটির প্রশিক্ষণে কেন যাননি,মৃত ও প্রাক্তন শিক্ষকের নামেও শো-কজ নোটিস নির্বাচন কমিশনের

Published on: April 14, 2026
---Advertisement---

পুরুলিয়া, ১৪ এপ্রিল: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে পুরুলিয়ায় নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোট ডিউটির প্রশিক্ষণে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ৫৮২ জনকে শো-কজের নোটিস পাঠানো হলেও, সেই তালিকায় মৃত ব্যক্তি এবং চাকরি ছেড়ে দেওয়া শিক্ষকের নাম থাকায় প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে জোরদারভাবে।

জেলা সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর, পাড়া, বান্দোয়ান ও কাশিপুরের একাধিক প্রার্থী যাঁরা একইসঙ্গে সরকারি শিক্ষক তাঁদেরও শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন রঘুনাথপুরের তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাউরি, পাড়ার বিজেপি প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক নদিয়ার চাঁদ বাউরি, বান্দোয়ানের বিজেপি প্রার্থী লবসেন বাস্কে এবং কাশিপুরের কংগ্রেস প্রার্থী সুভাষচন্দ্র মাহাতো।

তবে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে যখন দেখা যায়, যাঁরা আর জীবিত নন বা সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁদের নামেও শো-কজের চিঠি পাঠানো হয়েছে। মৃত শিক্ষক পীযূষকান্তি সরকারের নামেও নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, মনীষা গোস্বামী নামে এক প্রাক্তন শিক্ষিকা, যিনি বহু আগেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, তিনিও এই তালিকায় রয়েছেন।

সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, এই ধরনের শো-কজের প্রথম চিঠির উত্তর না পাওয়ার পর কমিশনের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর চিঠিও পাঠানো হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উত্তর সন্তোষজনক নয় যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মৃত বা প্রাক্তন কর্মীরা কীভাবে উত্তর দেবেন!

এই ঘটনায় জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে হাসি-ঠাট্টা ও সমালোচনা। সরকারি কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, “যিনি আর বেঁচে নেই, তাঁর কাছ থেকে উত্তর আশা করা কি বাস্তবসম্মত?”

অন্যদিকে, প্রার্থীরাও এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাউরি বলেন, তিনি প্রথম নোটিসেই নিজের প্রার্থীপদ এবং ছুটির বিষয়টি জানিয়েছিলেন। যদিও দ্বিতীয় চিঠি এখনও তাঁর হাতে পৌঁছায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের পদক্ষেপ অযৌক্তিক এবং বিভ্রান্তিকর।

বিজেপি প্রার্থী লবসেন বাস্কেও জানান, প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও পরপর দুটি শো-কজ চিঠি পেয়ে তিনি হতবাক। তাঁর কথায়, “আমি নিজেই কমিশনের কাছে মনোনয়ন জমা দিয়েছি, তারপরও এই নোটিস কেন?”

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুলবশত এই ধরনের কিছু শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলিকে উপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তবে সেই বার্তা সব প্রার্থীর কাছে পৌঁছায়নি বলেই অভিযোগ।

উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটের আগে পুরুলিয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ১৬ ও ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে এই বিতর্ক কমিশনের ভাবমূর্তিতে প্রশ্ন তুলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment