দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ২১ ফেব্রুয়ারিঃ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন তিনি। বছর দু’য়েকের ব্যবধানে সেই ‘বিরোধী’ই হলেন রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলার দলীয় কার্যালয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন প্রাক্তন বাম যুবনেতা প্রতীক উর রহমান। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে।
দলীয় কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক জানান, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু বাংলার স্বার্থে এবং উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রতীক উরও জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি নতুন পথ বেছে নিয়েছেন এবং মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য।
গত এক সপ্তাহ ধরেই প্রতীক উর রহমান রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর একটি চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি এমনকী প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও অব্যাহতি চাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। পরে সিপিএমের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তার আগে দলের একাংশ তাঁকে দলে রাখার চেষ্টা চালায়। বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানা যায়।
দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক শেষে মহম্মদ সেলিম সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, প্রতীক উরের দলত্যাগের খবর তাঁদের কাছে সন্তান হারানোর মতো বেদনার। তিনি দাবি করেন, বিদ্রোহী নেতাকে ফেরানোর চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, গত কিছুদিন ধরে তৃণমূলের এক সাংসদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন প্রতীক। বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক আলোচনায়ও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। শনিবার বিকেলে অভিষেকের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ল।
এদিকে শোনা যাচ্ছে, আরও দুই বাম যুবনেতা সৃজন ভট্টাচার্য এবং দীপ্সিতা ধর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ভোটের মুখে তাঁরাও কি একই পথে হাঁটবেন, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দলবদল বাম শিবিরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে যুব নেতৃত্বের একটি মুখ তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় সংগঠনগত প্রভাব পড়তে পারে বলে মত তাঁদের।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই দলবদল কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের অংশও হতে পারে। এখন দেখার, প্রতীক উরের এই পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতির অঙ্ক কতটা বদলায়।





