খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৩০ ডিসেম্বরঃ এসআইআর শুনানিকে ঘিরে বিতর্ক আরও গভীর হল। মঙ্গলবার সকালে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছান। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি এসআইআর শুনানি চলা একাধিক বুথ পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর। ঠিক সেই সময়েই পুরুলিয়ার এক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
এসআইআর শুনানিতে সময়মতো পৌঁছনোর চাপ ও মানসিক দুশ্চিন্তায় প্রাণ হারিয়েছেন পুরুলিয়ার ৮২ বছরের বৃদ্ধ দুর্জন মাঝি এই অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। সোমবার এই ঘটনার খবর পেয়ে দুর্জনের বাড়িতে যান ব্লক তৃণমূল সভাপতি মনোজ সাহা, জেলা সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো, সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, দুর্জন মাঝিকে হয়রানির উদ্দেশ্যেই শুনানিতে ডাকা হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিক চাপে ভুগছিলেন দুর্জন মাঝি। যদিও তিনি ২০০২ সালের ভোটার তালিকাভুক্ত এবং ইতিমধ্যেই এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও ২৫ ডিসেম্বর শুনানির নোটিস আসে। সোমবার শুনানির দিন ব্লক অফিসে যাওয়ার জন্য টোটো খুঁজতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। প্রায় তিন ঘণ্টা পরে বাড়ির অদূরে রেললাইন থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এসআইআর-এর কারণে এত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আপনারা কি বয়স্ক মানুষদের সম্মান করতে জানেন না? গতকালও একজন আত্মহত্যা করেছেন, তার অপরাধ কী?”
নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ায় রাজনৈতিক মহল এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। ভোটের আগে এসআইআর প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক যে আরও বাড়বে, তা এখনই স্পষ্ট।





