খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১০ ফেব্রুয়ারিঃ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই কোচবিহার জেলা বিজেপি কার্যালয়ের ছবি গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। জেলা ও রাজ্য স্তরের হেভিওয়েট নেতাদের আনাগোনা থাকলেও, দলীয় কার্যালয়ে সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি কার্যত চোখে পড়ছে না। ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক চললেও, মাঠের কর্মীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।
জানা যাচ্ছে, নির্বাচনী রণকৌশল চূড়ান্ত করতে কোচবিহারের জেলা কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু যে কর্মীদের ওপর ভর করেই ভোটযুদ্ধের পরিকল্পনা, সেই তৃণমূল স্তরের কর্মীদের দেখা মিলছে না পার্টি অফিসে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং টিকিট বণ্টন ঘিরে একাধিক গোষ্ঠীর টানাপোড়েন।
সূত্রের খবর, এক একটি বিধানসভা আসনের জন্য একাধিক নাম রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হয়েছে। কে টিকিট পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে দলের মধ্যে। ফলে অনেক কর্মীই এখন ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি নিয়েছেন। টিকিট ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা প্রকাশ্যে সক্রিয় হচ্ছেন না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
এই পরিস্থিতি দেখে বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, “ওদের দলে সবাই নেতা, কিন্তু কর্মীর দেখা নেই। গ্রামে গেলে বিজেপির ঝান্ডা ধরার লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। আমাদের এলাকায় পার্টি অফিসে যে ভিড় থাকে, বিজেপির জেলা অফিসেও তা নেই।” তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ কেন্দ্রের বঞ্চনার কথা বুঝে গেছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তার জবাব দেবেন।
ভোট যত এগোচ্ছে, ততই বিজেপির সাংগঠনিক ভিত নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। কোচবিহার বিজেপি কার্যালয়ের এই ‘খালি’ ছবি আদৌ কতটা বদলানো যায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





