মালদা, ১৩ ডিসেম্বরঃ গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ফের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাবে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী ছাত্রী নবনিতা দাস বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বেরিয়ে গিয়েছেন। তিনি মালদার ইংরেজবাজার শহরের বাসিন্দা এবং পড়াশোনার সময় গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিটের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সহ-সভাপতি পদে ছিলেন।
নবনিতার অভিযোগ, তৃণমূল করার কারণেই তাকে দিনের পর দিন মানসিক ও একাডেমিক ভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি জানান, একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনও ফল পাওয়া যায়নি। বরং অভিযোগ করার জেরে তাকে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর দাবি, সহপাঠীরাও ওই অধ্যাপকের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
পাস করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার পরও তিনি ন্যায়বিচারের আশায় উপাচার্য থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং রাজ্যপাল—সকলের কাছেই অভিযোগ জানান। তবে তাতেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। অবশেষে শনিবার তিনি স্বশরীরে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান এবং হাতে করে অভিযোগপত্র জমা দেন।
উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন নবনিতা। অভিযোগ জানাতে গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন তিনি এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চিকিৎসক ডাকা হয়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশও। পুলিশ ও উপাচার্যের কাছে তিনি গোটা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন।
ঘটনার পর গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই যা যা করণীয়, তা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেই অধ্যাপক বাপী মিশ্র সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনীতির প্রসঙ্গও উড়িয়ে দেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে ফের গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগের তদন্তে কী ফল বেরোয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে শিক্ষা মহল ও সাধারণ মানুষ।





