কলকাতা, ১৪ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হতে চলেছে। মালদহ, রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে আসছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিশেষ করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে বিজেপিকে রুখতে ব্যর্থ হয়ে এখন বাংলায় এসে ভোট কাটার রাজনীতি করছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, এর ফলে পরোক্ষে সুবিধা পাচ্ছে বিজেপি। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে যে কেউ প্রচারে আসতে পারেন। কিন্তু মহারাষ্ট্র, দিল্লি, হরিয়ানা, বিহারের মতো রাজ্যে যেখানে বিজেপিকে হারানোর সুযোগ ছিল, সেখানে কংগ্রেস ব্যর্থ হয়েছে। এখন বাংলায় এসে ভোট কেটে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে চাইছে।”
শুধু রাহুল গান্ধী নন, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বও উত্তরবঙ্গকে ঘিরে প্রচারে নামছে। শীঘ্রই প্রচারে আসবেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মাল্লিকার্জুন খার্গে এবং অন্যান্য জাতীয় নেতা। মালদহ, দুই দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদ জেলায় জোরদার প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে কংগ্রেসের। মঙ্গলবার থেকেই রাহুল গান্ধীর সফরের মাধ্যমে সেই প্রচারের সূচনা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, জাতীয় রাজনীতিতে মমতা ব্যানার্জি-এর গুরুত্ব বাড়ছে বলেই কংগ্রেস নেতৃত্ব অস্বস্তিতে ভুগছে। কুণাল ঘোষের কথায়, “প্রথম দিন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকার কারচুপি নিয়ে সরব হয়েছেন। আর কংগ্রেস নিজেদের রাজ্যেই তা রুখতে পারেনি, পরে অভিযোগ করছে।”
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের একাধিক বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় সেখানে সরকার গঠন সহজ হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-এর নাম, যিনি একসময় কংগ্রেসে থাকলেও পরে বিজেপিতে যোগ দেন। তৃণমূলের দাবি, কংগ্রেস নিজেদের সংগঠনই ধরে রাখতে পারছে না, অথচ বাংলায় এসে রাজনৈতিক লাভের চেষ্টা করছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, ইন্ডিয়া জোটে থেকেও কংগ্রেস জোট ধর্ম মানছে না এবং বিজেপিকে পরোক্ষে সুবিধা করে দিচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের জবাবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গকে ঘিরে কংগ্রেসের এই প্রচার রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই এখন দেখার।





