কলকাতা, ৯ ডিসেম্বরঃ রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক মহল। বিএলও-দের একাংশের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল’ করার অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। বিশেষ করে মৃত্যুহীন বুথের সংখ্যা সামনে আসতেই বিজেপি সরব হয়। তাদের অভিযোগ, কিছু বিএলও পক্ষপাতদুষ্টভাবে কাজ করছেন, যার প্রভাব পড়ছে ভোটার তালিকা সংশোধনে। তবে অন্যদিকে, বহু বিএলও নিষ্ঠার সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগেই দায়িত্ব পালন করেছেন এ কথাও মানছে প্রশাসন। অতিরিক্ত কাজের চাপে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেয়নি নির্বাচন কমিশন।
এই পরিস্থিতিতে ভুল সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি বিএলও-রা নিজেদের ভুল শুধরে নেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরোনোর পর যদি কোনও ভুল ধরা পড়ে, তাহলে তা আর অনিচ্ছাকৃত হিসেবে বিবেচিত হবে না; বরং ইচ্ছাকৃত ভুল বা গাফিলতি হিসেবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে এনুমারেশন ফর্ম বিলি ও সংগ্রহের জন্যও সময় বাড়িয়েছিল কমিশন। কাজের চাপে সময় বৃদ্ধি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন বহু বিএলও। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন বিএলও-র মৃত্যু, আত্মহত্যা কিংবা অসুস্থতার খবর উঠে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সেই কারণেই আগের ৪ ডিসেম্বরের ডেডলাইন বাড়িয়ে করা হয় ১১ ডিসেম্বর।
রোল অবজার্ভারদের রিপোর্ট অনুযায়ী, বহু ক্ষেত্রে তাঁরা ভুল সংশোধনের পরামর্শ দিলেও কিছু বিএলও সে নির্দেশ মানেননি। ফলে কমিশনের তরফ থেকে এবার সরাসরি নির্দেশ এল।
এদিকে, এসআইআর প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য অতিরিক্ত পাঁচ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। খুব দ্রুত তারা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গিয়েছে।





