শীতলকুচি, ২৩ সেপ্টেম্বর: রাত তখন প্রায় সাড়ে ১২টা। বাড়ির গেটের সামনে এসে এক ব্যক্তি ডাকতে শুরু করেছিলেন, ‘কাকা’। দাবি, বিপদে পড়েছেন তিনি। কয়েক জন তাঁকে আটকে রেখেছে। সাহায্যের জন্য বাইরে আসার অনুরোধও করেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন বিজেপি নেতা জয়কৃষ্ণ বিশ্বাস। কিছুটা এগোতেই আচমকা দু’জনের হামলা! কাঠের বাটামের আঘাতে জখম হওয়ার অভিযোগ উঠল শীতলকুচিতে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্ত জয়কৃষ্ণ বিশ্বাস শীতলকুচি বিজেপির ৫ নম্বর মণ্ডলের সহ-সভাপতি। তিনি ছোট শালবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট গদাইখোড়া গ্রামের বাসিন্দা।
জয়কৃষ্ণের অভিযোগ, বুধবার গভীর রাতে তাঁর বাড়ির গেটের সামনে এক ব্যক্তি এসে তাঁকে ‘কাকা’ বলে ডাকছিলেন। ওই ব্যক্তি জানান, তিনি বিপদে পড়েছেন এবং কয়েক জন তাঁকে আটকে রেখেছে। সাহায্যের জন্য জয়কৃষ্ণকে বাইরে আসতে বলেন। পরিচিতির ভঙ্গিতে ওই ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাঁর সঙ্গে কিছুটা দূর এগিয়ে যান তিনি।
অভিযোগ, এরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। আচমকাই দু’জন অপরিচিত ব্যক্তি তাঁর উপর চড়াও হন। তাঁদের হাতে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। হামলায় তিনি আহত হন। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তেরা সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে দাবি আক্রান্তের।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় জয়কৃষ্ণকে শীতলকুচি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা করানো হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর শীতলকুচি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জয়কৃষ্ণ। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তবে হামলার নেপথ্যে ঠিক কী কারণ, আক্রান্তকে পরিকল্পনা করেই বাড়ির বাইরে ডেকে আনা হয়েছিল কি না, কিংবা এই ঘটনায় কারা জড়িত সেই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও মেলেনি। অভিযুক্তদের পরিচয়ও স্পষ্ট নয়। তদন্ত এগোলেই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলাকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।





