খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারি: বিদায়ী ভাষণে ‘সেভেন সিস্টার্স’ প্রসঙ্গ তুলে নতুন করে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে আলোচনার জন্ম দিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস। উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখা শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর কৌশলগত গুরুত্বকে সামনে রেখেই নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারত। সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার সকালে শিলিগুড়ির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত মহানন্দা সেতুর নীচে মহড়া চালায় Border Security Force(বিএসএফ)। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলে এই মহড়া। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর জলপাইগুড়ির তিস্তা সেতুতেও একই ধরনের অনুশীলন হয়েছিল। নিরাপত্তা মহলের মতে, সেভেন সিস্টার্সকে বিচ্ছিন্ন করতে জঙ্গিরা গুরুত্বপূর্ণ সেতুকে টার্গেট করতে পারে এই আশঙ্কা থেকেই এমন প্রস্তুতি।
সোমবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইউনুস বলেন, বাংলাদেশের খোলা সমুদ্র শুধু ভৌগোলিক সীমারেখা নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দরজা। নেপাল, ভুটান ও সেভেন সিস্টার্সকে ঘিরে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যদিও তাঁর মন্তব্যকে হালকাভাবে নেয়নি ভারত। কারণ, শিলিগুড়ি করিডর উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগের একমাত্র স্থলপথ।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার এলাকায় নদী ও জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কাঁটাতারের বেড়া নেই। কোথাও বেড়া থাকলেও নদীপথে তা পুরোপুরি কার্যকর নয়। ফলে ওই অঞ্চলে বিএসএফ টহল বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগ,যেখানে ইউনুস-ঘনিষ্ঠ জামাত-ই-ইসলামি জোট উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের দাবি, রংপুর শিলিগুড়ি করিডরের নিকটবর্তী হওয়ায় নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। জামাতের সঙ্গে যুক্ত কিছু উগ্রপন্থী মহল সামাজিক মাধ্যমে ‘চিকেনস নেক’কে ভারতের দুর্বলতা বলে উল্লেখ করেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লে এই অঞ্চলে চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলেই আশঙ্কা। তাই তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলেও নিরাপত্তায় কোনও ঢিলেমি দিতে নারাজ ভারত। সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।





