নদিয়া, ১৭ মে: নদিয়ার ধুবুলিয়ায় এক বিজেপি কর্মীর উপর ভয়াবহ হামলার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় আক্রান্ত বিজেপি কর্মীকে উদ্ধার করে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর নাম হারাধন ঘোষ। তিনি পেশায় দুধ ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়ি নদিয়ার কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকের ধুবুলিয়া থানার তেতিয়া গ্রামে। রবিবার সকালে ঝিটকিপোতা গ্রামে দুধ দোয়ানোর কাজে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর উপর চড়াও হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ধারালো অস্ত্র দিয়ে হারাধন ঘোষকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত বিজেপি কর্মীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। প্রয়োজন হলে তাঁকে কলকাতার কোনও বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হতে পারে। চিকিৎসকরা তাঁর উপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন বিজেপি বিধায়ক সাধন ঘোষ। তিনি এই হামলার জন্য তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিজেপি কর্মীদের উপর একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “এভাবে বিরোধী দলের কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এক জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে হামলার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তরা এখনও পলাতক। তাঁদের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষের আবহে ফের একবার নদিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





