মালদা, ১০ মার্চঃ প্রশাসনিক অ-সহযোগিতার অভিযোগ তুলে নিজের জমি পুনরুদ্ধারে গ্রামবাসীদের নিয়ে মাঠে নামলেন প্রাক্তন কেএলও সদস্য সতীশ রাজবংশী। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভার জন্য হেলিপ্যাড তৈরির সময় তাঁর জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কয়েক মাস কেটে গেলেও সেই প্রাচীর পুনর্নির্মাণে প্রশাসনের কোনও সহযোগিতা মেলেনি বলে দাবি তাঁর।
জানা গেছে, গাজোল কলেজ সংলগ্ন ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে প্রায় আড়াই বিঘা জমি ২০২১ সালে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকায় কিনেছিলেন সতীশ রাজবংশী। জমিটি গাজোল এলাকার দুই জমির মালিকের কাছ থেকে ক্রয় করা হয় বলে জানা যায়। সতীশবাবুর বাড়ি মালদা থানার মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের গোয়ালপাড়া এলাকায়। তাঁর পরিবারে বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানরা রয়েছেন।
সতীশ রাজবংশীর পরিকল্পনা ছিল, ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে এবং কিছু সঞ্চিত অর্থের সাহায্যে ওই জমিতে একটি কর্ন প্রসেসিং বা শিল্প প্রকল্প গড়ে তোলার। পাশাপাশি জমির একটি অংশ বসতি হিসেবে বিক্রি করার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। কিন্তু অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা উপলক্ষে হেলিপ্যাড তৈরির সময় জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়।
এরপর থেকেই জমি দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন তিনি। বহুবার আবেদন জানানোর পরও প্রশাসনের তরফে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
অবশেষে বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় নিজেই জমির সীমানা পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছেন সতীশ রাজবংশী। তাঁর দাবি, নিজের বৈধভাবে কেনা জমি রক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যদি সত্যিই প্রশাসনিক কাজের জন্য জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙা হয়ে থাকে, তবে সেটি পুনর্গঠনের দায়িত্ব কার তা নিয়েই।





