খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৪ জানুয়ারিঃ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা আক্রমণ করতে গিয়ে নিজেই বড়সড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ ও রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। শুক্রবার সরস্বতী পুজোর দিন পুরুলিয়া শহরের রাঁচি রোডে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতে গিয়ে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে বিদ্ধ হন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতে গিয়ে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো তাঁকে ‘পতিদাহর জনক’ বলে আখ্যা দেন। সেই প্রসঙ্গ টানতে গিয়েই তিনি বলেন, “সতীদাহর জনক ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।” এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। ইতিহাস বলছে, সতীদাহ প্রথা প্রবর্তন নয়, বরং এই কুপ্রথা নিবারণে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়। বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ২১ তারিখ হুড়ার লধুড়কার চন্ডেশ্বর ময়দানে রণসংকল্প সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভায় তিনি বলেন, সিপিএমের হার্মাদরাই এখন বিজেপির জল্লাদ। এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়াতেই শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ খুলেন জ্যোতির্ময়।
দলবদলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন,“দলবদলের ইতিহাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে ভালো কেউ জানেন না। প্রথমে কংগ্রেস, পরে তৃণমূল গড়ে বিজেপির সঙ্গী হন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর হাতে-পায়ে ধরে দলকে দাঁড় করিয়ে আবার কংগ্রেস জোটে ফিরে গিয়েছেন।” পাশাপাশি, রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে অভিষেকের চ্যালেঞ্জেরও জবাব দেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মোদি সরকারের ১২ বছরের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। জবাবে জ্যোতির্ময় বলেন, “আপনি কে? মুখ্যমন্ত্রীকে বলুন, গোটা মন্ত্রীসভাকে বলুন। আমি বসতে রাজি। একদিন আগে জানালে আগের রাতেই পৌঁছে যাব। আমার তো হেলিকপ্টার নেই।”
রেল পরিষেবা ও উন্নয়ন নিয়েও রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেন বিজেপি সাংসদ। পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম রেলপথের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন রেলমন্ত্রী ছিলেন। তখন কি এই রুটের সার্ভেও করাতে পেরেছিলেন? আমরা শুধু সার্ভে নয়, রুট চার্ট তৈরি করেছি। কিন্তু যে রাজ্য সরকার ফ্লাইওভার বানাতেই এনওসি দেয় না, তারা জমি দেবে?”
অভিষেকের ৯-০ করার ডাকের পাল্টা জবাবে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, “৯-০ হবে ঠিকই, তবে তা বিজেপির পক্ষে। রাজ্যে বামেদের মতোই তৃণমূলও মহাশূন্য হয়ে যাবে।” এই মন্তব্যে পুরুলিয়ার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল।





