কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ নেশা থেকে নাবালিকার বিয়ে সমাজের একাধিক সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার পবিত্র সম্বৎসরী দিবস উপলক্ষে ভবানীপুরের একটি জৈন মন্দিরে গিয়ে সমাজসংস্কারে জৈন সম্প্রদায়কে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানালেন তিনি। একই সঙ্গে, দুর্গাপুজোর পর বৈঠক করে এই কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘রোডম্যাপ’ তৈরির কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যে মাদক ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, প্রায় প্রতিদিনই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদক উদ্ধার হচ্ছে। নেশার বিস্তার নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাংলা বরবাদ হয়ে গিয়েছে, কাশ্মীরের সঙ্গে কমপিটিশন করছে।” নাবালিকার বিয়ে এবং তাঁদের গর্ভবতী হওয়ার হার নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
তবে বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সমাজসংস্কারের উদ্যোগ। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপে এই ধরনের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমাজের বিভিন্ন অংশের সক্রিয় অংশগ্রহণ। সেই কারণেই জৈন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক সম্প্রীতি ফেরানোর মতো উদ্যোগে জৈন সমাজকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, সমাজে শান্তি ফেরাতে ধর্মীয় সংগঠনগুলিরও ভূমিকা রয়েছে।
জৈন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সমাজ সংস্কার করতে সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জৈন সমাজের কাজ করা উচিত।” দুর্গাপুজোর পর বৈঠক করে সেই পরিকল্পনা তৈরি করে সরকারকে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে প্রশাসন এবং সমাজের যৌথ উদ্যোগের প্রসঙ্গও। তাঁর আহ্বান, মাদকাসক্তি, নাবালিকার বিয়ে-সহ সামাজিক সমস্যাগুলির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলিকে সক্রিয় হতে হবে।
এ দিন নিজের বক্তব্যের শেষে জৈন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। বলেন, “আমি আপনাদের লোক। সরকার আপনাদের।” এখন দেখার, দুর্গাপুজোর পর প্রস্তাবিত বৈঠকে সেই ‘রোডম্যাপ’ কতটা বাস্তব রূপ পায়।





