বাঁকুড়া, ২৩ ডিসেম্বর: নিজেদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়ে মঙ্গলবার কর্মবিরতির ডাক দেন বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের করিশুন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আশা কর্মীরা। এদিন করিশুন্ডা অঞ্চলের বিভিন্ন সাব-সেন্টারে কর্মরত আশা কর্মীরা একযোগে কাজ বন্ধ রেখে প্রতিবাদে সামিল হন। তাঁদের কর্মবিরতির ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজকর্ম আংশিকভাবে ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে।
আশা কর্মীদের দাবি, করিশুন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বিভিন্ন সাব-সেন্টারে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন। অথচ নিয়মিত বেতন পান না, এমনকি নির্দিষ্ট সময়ে পারিশ্রমিক মেলেও না। এই দীর্ঘ বঞ্চনার প্রতিবাদেই তাঁরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেন। আশা কর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্মসূচির বিষয়ে গোকেয়ার সংক্রান্ত ডকুমেন্টেশন ও ডেপুটেশন সংক্রান্ত কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট সাব-সেন্টার এবং বিডিও অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।
তাঁদের বক্তব্য, ইউনিয়নের তরফে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই নির্দেশ মেনেই তাঁরা এদিন কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছেন। সাধারণত এ ধরনের কর্মসূচির আগে বিভিন্ন দপ্তরকে জানাতে হয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন আশা কর্মীরা। তাঁরা স্পষ্ট করে জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও নিয়ম ভাঙার উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না।
তবে জানা গেছে, করিশুন্ডা অঞ্চলের আশা কর্মীদের এই কর্মবিরতি সফল হয়নি। কারণ, কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি তাঁরা পাননি। এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে করিশুন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জানান, এদিন আশা কর্মীরা কোনও পূর্ব নোটিস বা লিখিত আবেদন ছাড়াই হঠাৎ করে অনুমতি চাইতে এসেছিলেন। আগে থেকে কোনও ধরনের তথ্য, নোটিস বা লিখিত বার্তা না পাওয়ায় পঞ্চায়েতের পক্ষে অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
সবশেষে আশা কর্মীরা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি-দাওয়া যেন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয় এবং দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।





