মুর্শিদাবাদ, ১৭ জানুয়ারি: ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে টানা দু’দিন ধরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। ঝাড়খণ্ডে কাজ করতে গিয়ে বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। শুক্রবার সকালে তাঁর মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছনোর পর থেকেই এলাকাজুড়ে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা টায়ার জ্বালিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন, বাঁশ ফেলে বন্ধ করে দেওয়া হয় রেললাইনও। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়।
অবরোধের জেরে রাস্তায় যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ে, আটকে পড়ে একাধিক ট্রেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছন জেলা শাসক ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরা। যদিও পরে অবরোধ উঠলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কারও নাম না করে প্ররোচনার অভিযোগ তোলেন। সেই অভিযোগ ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়।
এবার এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের সাসপেন্ড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের তিনি নিজে রাস্তা অবরোধ না করার অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর দাবি, অবরোধ তুলতে পুলিশ কর্তাদের তরফেও তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। হুমায়ুন কবীর বলেন, “এসপি ও হরিহরপাড়ার আইসি আমাকে একাধিকবার ফোন করেন। তবে প্রশাসনের অনুরোধে নয়, মৃতদেহ সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণেই অবরোধ উঠে যায়।”
এদিন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীকেও কটাক্ষ করেন হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য, “তিনি ঘোলা জলে মাছ ধরতে এসেছিলেন। তাই ‘গো ব্যাক’ স্লোগান শুনতে হয়েছে।” পাশাপাশি নিজের দলের সভা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। জানান, ১ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডে সভার আবেদন করা হলেও অনুমতি মেলেনি।
এদিকে শুক্রবারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার ফের উত্তপ্ত হয় বেলডাঙা। জাতীয় সড়ক অবরোধ, রাস্তার কাজ বন্ধ, রেলগেট ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। আক্রান্ত হন সাংবাদিকরাও। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন প্রশাসন, রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সব ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেলডাঙায়।





