কলকাতা, ১৩ জুলাইঃ চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে আপাতত গ্রেপ্তার নয়। কলকাতা হাই কোর্টে স্বস্তি পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান রাজনীতিক মানস ভুঁইঞা। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, তদন্ত চললেও এই মুহূর্তে তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। একই সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশও দিল আদালত।
সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলার শুনানিতে মানস ভুঁইঞা-সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ, তদন্তে ডাকা হলে হাজিরা দিতে হবে এবং সবরকম সহযোগিতা করতে হবে। পাশাপাশি আদালতের অনুমতি ছাড়া সবং বিধানসভা কেন্দ্রের বাইরে যেতে পারবেন না প্রাক্তন মন্ত্রী।
মামলার সূত্রপাত রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর। সবংয়ের বাসিন্দা বিকাশ কুমার টুং অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর স্ত্রী মঞ্জু সাহু টুংকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, তৎকালীন মন্ত্রী মানস ভুঁইঞার মধ্যস্থতায় তৃণমূলের স্থানীয় কয়েকজন নেতার মাধ্যমে ওই টাকা নেওয়া হয়। পরে ‘CISB Services Private Limited’-এর অধীনে একটি পদে কাজে যোগ দিলেও মাত্র দু’মাসের মাথায় চাকরি বাতিল করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। চাকরি বাতিলের নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছিল বলেও দাবি অভিযোগকারীর।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে সবং থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪) ও ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু হয়। পুলিশ নোটিস পাঠিয়ে কয়েক ঘণ্টা জেরাও করে মানস ভুঁইঞাকে। এরপর মেদিনীপুর জেলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করলেও শুনানি পিছিয়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
সোমবারের নির্দেশে আপাতত গ্রেপ্তারির আশঙ্কা কাটলেও তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট করেছে আদালত। ফলে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আইনি লড়াই এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল।





