কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বরঃ ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস ঘিরে তদন্ত এখনও চলছে। তার মধ্যেই সেই অফিসেই ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর অফিসে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়েছে বলে সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার ছবি পোস্ট করে রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কলকাতা হাই কোর্টের হস্তক্ষেপের আর্জি জানান তিনি।
অভিষেকের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে এ ভাবে ভয় দেখানো গণতন্ত্রের পরিপন্থী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তাঁর প্রশ্ন, তৃণমূল এবং তাঁকে নিয়ে এতটা ‘ভয়’ কেন? তাঁর কথায়, এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতি নয়, ‘রাজনৈতিক গুন্ডামি’। প্রতিটি হামলা, ভয় দেখানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা মনে রাখা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ঘটনার জেরে কালীঘাট তৃণমূলও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। দলের দাবি, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। অভিষেক শহরে নেই এবং আগের রাতে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এই খবর জানার পর ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ দুষ্কৃতীরা অফিসে ঢোকে বলে অভিযোগ। অফিসে হামলার পাশাপাশি এয়ার পিউরিফায়ার, প্রিন্টার, টিভি-সহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ছ’জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।
অন্য দিকে, বিজেপি এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষের বক্তব্য, দল এই ধরনের কোনও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়।
তবে নতুন অভিযোগের পিছনে রয়েছে আরও একটি পুরনো পর্ব। কয়েক দিন আগে ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিসের বাইরে থাকা একটি হোর্ডিং খুলতে গিয়ে পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূলের কর্মীদের বচসা হয়। পুরসভার দাবি ছিল, হোর্ডিংটি বেআইনি ভাবে লাগানো এবং বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছিল। সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ ও পুরকর্মীদের উপর হামলা এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগে শেক্সপিয়র সরণী থানায় মামলা হয়েছে। সেই তদন্তেই বুধবার হাজিরা দেন ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। অভিষেককেও তলব করা হয়েছে।
অর্থাৎ, এক তদন্তের মধ্যেই দ্বিতীয় অভিযোগ। ফলে ক্যামাক স্ট্রিট এখন শুধু একটি অফিসের ঠিকানা নয় রাজনৈতিক সংঘাত, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন বিতর্কের কেন্দ্র।





