কলকাতা, ১৩ জুলাইঃ বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানেই যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হল এক তরুণীকে। অভিযোগ দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশের ঠাকুরপুকুর থানা। নারী নির্যাতনের অভিযোগে দ্রুত পদক্ষেপের বার্তা দিতে গিয়ে তদন্তেও গতি এনেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার, ঠাকুরপুকুর থানা এলাকায়। অভিযোগ, এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন নির্যাতিতা। সেখানে তাঁরই এক বন্ধু জোর করে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে উপস্থিত আরও দু’জন তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণ করে এবং বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁর মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কোনওভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী।
অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের নাম টিংকু, কৌশিক ও বাবাই বলে পুলিশ জানিয়েছে। নির্যাতিতার মোবাইলও উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি অভিযোগের অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপের উপর বিশেষ জোর দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। বারুইপুরের ঘটনার পর পুলিশকে জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তদন্তে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। সেই নির্দেশিকার প্রেক্ষিতেই এই ঘটনায় দ্রুত গ্রেপ্তারি ও তদন্তের পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ মহল। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার ক্রম এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।





