খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৭ জানুয়ারিঃ জনগণনার কাজ থেকে শুরু করে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব এমনকি এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলও হিসেবে ডিউটি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিহারের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও এক নতুন কাজ। সূত্রের খবর, বিহারের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এবার রাস্তায় নেমে পথকুকুর গণনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও বিক্ষোভ।
জানা গিয়েছে, বিহারের রোহতাস জেলার সাসারাম পুরসভার তরফে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পুরসভার আওতাধীন সমস্ত স্কুলে নোটিস পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্য থেকেই নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে হবে। ওই নোডাল অফিসারের দায়িত্ব হবে স্কুল চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা পথকুকুরদের সংখ্যা নির্ধারণ করা এবং সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পুরসভাকে জানানো।
শুধু কুকুর গোনা নয়, তাদের শারীরিক অবস্থা কেমন, তারা কোনও রোগে আক্রান্ত কি না, পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে এই সব বিষয় নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করতেও বলা হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে ডগ পাউন্ড বা পথকুকুরদের থাকার জন্য নির্দিষ্ট কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে পুরসভার।
এই নির্দেশ পাওয়ার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁদের অভিযোগ, এমনিতেই শিক্ষকসংখ্যা কম হওয়ায় পড়াশোনার কাজ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তার উপর পড়ানোর বাইরে একের পর এক প্রশাসনিক ও সরকারি কাজ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জনগণনা, নির্বাচন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলও-র দায়িত্ব পালনের পর এবার পথকুকুর গণনার কাজ দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে বলে মত তাঁদের।
শিক্ষকদের একাংশের প্রশ্ন, পড়াশোনা ও ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎকে কার্যত উপেক্ষা করে এই ধরনের কাজ চাপিয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? যদিও এই প্রসঙ্গে সাসারাম পুরসভার কমিশনার বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, সরকারের নির্ধারিত গাইডলাইন অনুযায়ীই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক মহলে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।





