খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৬ জানুয়ারিঃ বাংলায় কথা বলার কারণেই ফের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠল। ঘটনাস্থল বিজেপি শাসিত রাজ্য ছত্তিশগড়। সেখানে পুরুলিয়ার আটজন সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বজরং দলের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। মারধরের জেরে একজনের হাত ভেঙে গিয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে শ্রমিকদের পরিবারে।
সূত্রের খবর, প্রায় তিন মাস আগে পুরুলিয়া মফস্বল থানার চেপড়ি গ্রামের বাসিন্দা শেখ জসিম ছত্তিশগড়ের রায়পুর জেলার কোতয়ালি থানার সুরজপুর এলাকায় একটি পাউরুটি কারখানায় কাজে যোগ দেন। দু’মাস কাজ করার পর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। পরে কারখানায় আরও শ্রমিকের প্রয়োজন হওয়ায় শেখ জসিম ফের সেখানে যান তাঁর ভাই শেখ আলম, চেপড়ি গ্রামের শেখ বাবিন ওরফে শরিফুল, শেখ জুলফিকার, শেখ সাহিল, তেঁতলো গ্রামের আরবাজ কাজী এবং আড়শা থানার ভুরসু গ্রামের শেখ মিনাল ও শেখ ইসমাইলকে সঙ্গে নিয়ে। তাঁরা সুরজপুর এলাকার পেররী গ্রামে ওই কারখানায় কাজে যোগ দেন।
অভিযোগ, রবিবার বিকেলে কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বচসা হয়। এরপরেই স্থানীয় কিছু বজরং দলের সদস্য সেখানে পৌঁছায়। শ্রমিকরা বাংলায় কথা বলায় তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে লাঠিপেটা করা হয়। মারধরের সময় শেখ জসিমের একটি হাত ভেঙে যায় বলে পরিবারের দাবি। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি থানায় জানালে রায়পুর জেলার কোতয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটজনকে উদ্ধার করে।
ঘটনার খবর পেয়ে ছত্তিশগড় পুলিশ পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। চেপড়ি গ্রামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি শেখ ইকবাল জানান, ছত্তিশগড় পুলিশের এক আধিকারিক ফোন করে শ্রমিকদের নাম ও ঠিকানা জানতে চান। পরে পরিবারের তরফে সমস্ত নথিপত্র পুরুলিয়া মফস্বল থানায় জমা দেওয়া হয়।
বাংলায় কথা বলার জন্য মারধরের ঘটনায় শ্রমিকদের পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, আহতদের নিরাপদে বাড়ি ফেরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।





