মালদা, ১৯ ডিসেম্বরঃ প্রেমঘটিত সম্পর্কের জেরে এক তরুণের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল মালদার মানিকচক ব্লকের ধরমপুর অঞ্চলের বড় বাগান এলাকায়। রবিবার সকালে ওই এলাকার একটি বাড়ির শোয়ার ঘর থেকে আসিফ শেখ (২২) নামে এক তরুণের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মানিকচক থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আসিফ শেখ ও মেহেনাজ পারভীন পরস্পরকে ভালোবাসতেন। সেই প্রেমের সম্পর্কের টানেই প্রায় ছয়-সাত মাস আগে তাঁরা সামাজিকভাবে বিয়ে করেন। পরিবারের একাংশ প্রথমে এই সম্পর্কে আপত্তি জানালেও পরে বিষয়টি মেনে নেওয়া হয় বলে দাবি। আসিফের শাশুড়ি তথা মেহেনাজের মা জানান, বিয়ের পরে আসিফকে দু’কাটা জমিও দেওয়া হয়েছিল, যেখানে কাজকর্ম করে বাড়ি তৈরি করে সংসার পাতার পরিকল্পনা ছিল।
বিয়ের পর মেহেনাজের সঙ্গে প্রায় দেড় মাস শ্বশুরবাড়িতেই ছিলেন আসিফ। এরপর জীবিকার তাগিদে ভিনরাজ্য মুম্বাইয়ে কাজে চলে যান তিনি। প্রায় দেড় মাস আগে কাজে গিয়েছিলেন আসিফ, প্রায় ১৫ দিন আগে বাড়ি ফেরেন। সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল বলে পরিবারের দাবি।
কিন্তু রবিবার সকালে হঠাৎই বাড়ির শোয়ার ঘর থেকে আসিফের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেতেই গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃতের শাশুড়ির অভিযোগ, “গত রাতে আমার জামাই আসিফকে মারধর করা হয়ে থাকতে পারে। হয় তাকে খুন করা হয়েছে, নয়তো অত্যাচারের কারণে সে আত্মহত্যা করেছে।” তাঁর দাবি, ঘটনার পিছনে পারিবারিক অশান্তির যোগ থাকতে পারে।
অন্যদিকে, মৃত আসিফের পরিবারের বক্তব্য কিছুটা আলাদা। তাঁদের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এবং পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছিল। সেই পারিবারিক অশান্তির জেরেই এই মর্মান্তিক পরিণতি হতে পারে। তবে তাঁরা সরাসরি কাউকে দোষারোপ করেননি।
তরতাজা তরুণের এভাবে মৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এটি আত্মহত্যা, না কি খুন তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার খবর পেয়ে মানিকচক থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মানিকচক থানার পুলিশ। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য ও পারিবারিক সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই রহস্যজনক মৃত্যুর পিছনে ঠিক কী কারণ, সেদিকেই এখন তাকিয়ে মালদা জেলার মানুষ।





