ডায়মন্ড হারবার, ৪ নভেম্বরঃ একটি ব্যাগ। তার ভিতরে থরে থরে সাজানো টাকার বান্ডিল। আলমারির দরজা খুলতেই তদন্তকারীদের সামনে এল নগদ টাকার পাহাড়! দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের সরিষায় তৃণমূলের একটি পার্টি অফিসে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হল ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। বুধবার সকালে পুলিশের এই অভিযান ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, ওই কেন্দ্র তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা এলাকা হিসাবেই পরিচিত। তবে উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস কী, কেনই বা তা পার্টি অফিসে রাখা হয়েছিল, এখনও তার উত্তর মেলেনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। অভিযোগ, সরকারি জমি বেআইনি ভাবে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। পরে ডায়মন্ড হারবারের কালিতলা আশুতি থানাতেও সুমিতের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি তাঁর বিরুদ্ধে মাটি চুরির অভিযোগ আনেন। সেই মামলাতেই সুমিতকে নিজেদের হেফাজতে নেয় জেলা পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, সুমিতকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি সূত্র পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরেই বুধবার সকালে সরিষার ওই রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌঁছন পুলিশ আধিকারিকেরা। দীর্ঘ তল্লাশির এক পর্যায়ে পার্টি অফিসের ভিতরে থাকা একটি আলমারিতে একটি ব্যাগের সন্ধান মেলে। ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে আসে বিপুল নগদ টাকা। গুনে দেখা যায়, মোট ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অভিষেক মজুমদার জানিয়েছেন, কালিতলা আশুতি থানার একটি মামলায় সুমিত রায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে জেরা করে পাওয়া সূত্রের ভিত্তিতেই একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে ওই টাকা উদ্ধার হয়েছে। টাকার উৎস এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র ঋজু দত্তের কটাক্ষ, তৃণমূল মানেই দুর্নীতি ও কালো টাকা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে রয়েছেন, সেখানে টাকার পাহাড় পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
তবে উদ্ধার হওয়া অর্থের সঙ্গে সুমিত রায় বা দলের অন্য কোনও নেতার যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। নগদ টাকার উৎস অনুসন্ধানেই এখন পুলিশের নজর।





