খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৪ মার্চঃ ভিনরাজ্যে ফের রহস্যজনক মৃত্যু বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃতের নাম অনাদি মাহাতো (২৯)। তিনি পুরুলিয়া জেলার ঝালদা দু’নম্বর ব্লকের খৈরি গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, মৃতদেহ উদ্ধারের পরেও দীর্ঘ সময় ময়নাতদন্ত না হওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত স্ত্রী প্রীতিলতা মাহাতোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন অনাদি। তিন বছরের ছেলে ও ছয় বছরের মেয়ের সঙ্গেও ভিডিও কলে কথা হয় তাঁর। প্রীতিলতা দেবীর কথায়, প্রতিদিন ভোরে কাজে বেরোনোর আগে ফোন করতেন অনাদি। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরে ফোন না আসায় সন্দেহ হয় তাঁর। পরে সহকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পারেন, অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনাদি। কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যুসংবাদ আসে। পরিবারের প্রশ্ন, রাত পর্যন্ত সুস্থ থাকা একজন মানুষ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে মারা গেলেন?
প্রায় সাত-আট বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন অনাদি। গত দেড়-দু’বছর অন্য একটি সংস্থায় কাজ শুরু করেন। তবে ঠিক কোথায় থাকতেন বা কোন সংস্থায় কর্মরত ছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পরিবারের কাছে নেই। এই পরিস্থিতিতে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বিষয়টি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দপ্তরে জানান। তাঁর হস্তক্ষেপের পর বুধবার ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা যায়।
দলীয় সূত্রে খবর, বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে ঝাড়খণ্ডের রাঁচি হয়ে অ্যাম্বুল্যান্সে করে মৃতদেহ পুরুলিয়ার খৈরি গ্রামে আনা হবে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের প্রতিনিধি দল শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।





