কলকাতা, ১৫ মেঃ প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দিদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। অভিযোগ, জেলের ভিতর থেকেই অপরাধচক্র পরিচালনা করা হচ্ছিল। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘরাইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তে সিআইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিধানসভা থেকে সরাসরি নবান্নে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে মোবাইল ব্যবহার হচ্ছে। আগের সরকারের সাপোর্ট কিংবা ক্যালাসনেস থাকতে পারে। অভিযোগ পাওয়ার পর রাজ্য পুলিশের ডিজিকে জানানো হয়। তদন্তে দেখা যায় অভিযোগ সত্যি।” এরপর কলকাতা পুলিশের ডিসি সাউথ এবং ডিজি কারেকশনাল হোমের উপস্থিতিতে যৌথ অভিযানে একাধিক মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, শুধু প্রেসিডেন্সি নয়, রাজ্যের একাধিক সংশোধনাগার থেকেই অপরাধচক্র পরিচালিত হচ্ছিল। তাঁর বক্তব্য, “গোটা রাজ্যের অপরাধীরা জেলের মধ্যে বসে নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছে। দমদম থেকে বহরমপুর পর্যন্ত বিভিন্ন জেলে এই প্রক্রিয়া চলছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, এই ব্যবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি, বরং দীর্ঘদিন ধরে নিচু স্তর থেকে উপরতলা পর্যন্ত দুর্নীতির আঁতাতের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলের ভিতরে অপরাধচক্র চালানোর অভিযোগে যাঁদের নাম সামনে আসছে, তাঁদের আলাদা সেলে সরানো-সহ একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি শাহাজান শেখ-এর নাম উল্লেখ করে বলেন, “জেলে বসে যারা নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আপনার যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে পালন করুন। কর্তব্যে গাফিলতি হলে শুধু অপরাধী নয়, অপরাধে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সিআইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলির সিম কার্ড কার নামে, কীভাবে জেলের ভিতরে ফোন পৌঁছল এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত তা খতিয়ে দেখতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সংশোধনাগারে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। এবার সেই অভিযোগ সামনে আসতেই বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।





