কলকাতা, ১৫ মেঃ রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে বিধানসভায় সৌজন্য ও গঠনমূলক রাজনীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার স্পিকার নির্বাচনের পর বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধী শিবির তথা তৃণমূল বিধায়কদের উদ্দেশে একাধিক আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে পূর্বতন সরকারের কাজের ধরন নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি নেতা।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “প্রয়োজনে চিঠি পাঠাতে পারেন। আগে কোনও কোনও মন্ত্রী চিঠির উত্তর দিতেন না। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীর থেকে তো প্রশ্নই ছিল না। তবে আমরা চিঠি দিলে নিশ্চয়ই উত্তর দেব। প্রাপ্তিস্বীকারও করা হবে। কিছুটা ইতিবাচক ফলাফলও পাবেন।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে শাসক-বিরোধী উভয় শিবিরেই রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিরোধীদের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হাউজ বিলংস টু অপজিশন” নীতিকে সামনে রেখেই আগামী দিনে বিধানসভার কাজ পরিচালিত হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও বিরোধীদের মত প্রকাশের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “সংখ্যায় আপনারা কম হলেও ৫০-৫০ ভাগ থেকে আমরা সরব না। আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও স্পিকার যেন বিরোধীদের বেশি বলতে দেন, তা বলব।”
মন্ত্রীদের সঙ্গে বিরোধী বিধায়কদের যোগাযোগ নিয়েও ইতিবাচক অবস্থান নেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধী বিধায়করা চাইলে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। মন্ত্রীদেরও নির্দেশ দেওয়া হবে যাতে তাঁরা সময় দেন। যদিও এ প্রসঙ্গে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “যদি আপনাদের দল অনুমতি দেয়।”
এদিন শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, বিজেপি চাইছে না কোনও বিরোধী দলনেতা দীর্ঘদিন বিধানসভার বাইরে থাকুন কিংবা কোনও বিধায়ক শারীরিক হেনস্তার শিকার হন। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভায় ভাষার শালীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন। “আমরা গঠনমূলক বিরোধিতা চাই। সংবিধানকে মাথায় রেখে কাজ করতে চাই,” বলেন তিনি।
একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র আদর্শে বিজেপি শাসিত অন্য রাজ্যগুলির মতোই বাংলাতেও সরকার পরিচালিত হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পিকারকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “স্পিকার সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে চলবেন। তাঁর নির্দেশ আমরা মেনে চলব।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বিধানসভায় একাধিকবার শাস্তির মুখে পড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই এবার তিনি বিধানসভায় তুলনামূলক সহনশীল ও সৌজন্যমূলক পরিবেশ বজায় রাখার বার্তা দিলেন বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।





