কলকাতা, ১৫ মেঃ তিলজলায় বুলডোজার দিয়ে বহুতল ভাঙার ঘটনায় আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুরসভা ইচ্ছেমতো ভাঙার কাজ চালাতে পারবে না। তবে ইতিমধ্যে যে অংশ ভাঙা হয়েছে, সেটি যদি বিপজ্জনক অবস্থায় থাকে, তাহলে বাড়ির মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে পুরসভা। সেই ক্ষেত্রে সমস্ত পদক্ষেপ আইন মেনেই করতে হবে বলে নির্দেশ আদালতের।
এদিনের শুনানিতে বহুতল নির্মাণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী জানান, মালিকপক্ষ এখনও পর্যন্ত ওই বহুতলের কোনও বৈধ স্যাংশন প্ল্যান আদালতে জমা দিতে পারেনি। পাশাপাশি ওই ভবনে কী ধরনের ব্যবসা চলত, তারও কোনও বৈধ নথি দেখানো হয়নি। ফলে আপাতত সেখানে কোনও ব্যবসায়িক কার্যকলাপ চালানো যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দেন তিনি।
শুনানির সময় অবৈধ নির্মাণ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, “মাশরুমের মতো অবৈধ নির্মাণ হচ্ছে। এটা বিপর্যয় ডেকে আনবে।” আদালতের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে শহরে বেআইনি নির্মাণ ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে।
জানা গিয়েছে, তিলজলার ওই বহুতল ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি ছিল, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ হয়েছে। এরপর পুরসভার তরফে অভিযান চালিয়ে বুলডোজার নামানো হয়। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ভবনের মালিকপক্ষ।
মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, কোনও নির্মাণ বেআইনি হলেও প্রশাসনকে আইন মেনে পদক্ষেপ করতে হবে। জোর করে বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ভাঙার কাজ করা যাবে না। একইসঙ্গে নিরাপত্তার প্রশ্নকেও গুরুত্ব দিয়েছে আদালত। বিচারপতির মতে, আংশিক ভাঙা কোনও বহুতল যদি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে, তাহলে তা আশপাশের বাসিন্দাদের জন্যও বিপদ ডেকে আনতে পারে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, কলকাতা ও শহরতলিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়া বহুতল নির্মাণ, বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই আবহেই তিলজলা মামলায় হাই কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।





